ঢাকা | জুলাই ৬, ২০২৬ - ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

গৌরবের ৭৩ বছর পেরিয়ে ৭৪ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • আপডেট: Monday, July 6, 2026 - 12:17 am

স্টাফ রিপোর্টার: আজ ৬ জুলাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী, শতাধিক বিভাগ ও ইনস্টিটিউট এবং ১৭টি আবাসিক হল রয়েছে। তবে ৭৩ বছরের দীর্ঘ পথচলা শেষেও আবাসন সঙ্কট, সীমিত গবেষণা বরাদ্দ ও অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে ক্যাম্পাসটিতে।

গবেষণায় বরাদ্দ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির তাগিদ:

গবেষণায় আরো বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়ামিন হোসেন বলেন, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, আধুনিক গবেষণাগার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং তরুণ গবেষকদের জন্য আরো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আবাসন সঙ্কট। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার রিয়া বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন ও পরিচয়ের অংশ। আমরা চাই গবেষণার আরো প্রসার, আধুনিক শিক্ষা-সুবিধা, আবাসন সমস্যার সমাধান এবং একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস, যেখানে জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ সমানভাবে বিকশিত হবে।

একই শিক্ষাবর্ষের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব ইসলাম বলেন, শতভাগ আবাসিকতা, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মেডিক্যাল সেন্টারের সেবার মান বৃদ্ধি ও নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সিট বাণিজ্য বন্ধ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সময়ের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমানে প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে।

উপাচার্য আরো যোগ করেন, একই সাথে সেশনজট শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, গবেষণার মান উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি স্থাপন, আলোকায়ন বৃদ্ধি এবং গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৭৩ বছরের গৌরবময় পথচলা শেষে নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রত্যাশা।