ঢাকা | অগাস্ট ১৫, ২০২৬ - ১১:৪৯ অপরাহ্ন

রাজশাহী নগরীতে আশঙ্কাজনক শব্দদূষণ

  • আপডেট: Saturday, August 15, 2026 - 10:58 pm

স্টাফ রিপোর্টার: নগরায়ণ ও যানবাহন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মহানগরীতে শব্দদূষণ আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে।

সম্প্রতি পরিচালিত এক পরীক্ষায় নগরীর ব্যস্ততম দুই পয়েন্ট রেলগেট ও লক্ষ্মীপুর মোড়ে শব্দের মাত্রা সহনশীল সীমার বহু ওপরে গিয়ে সর্বোচ্চ গড়ে ১০০ ডেসিবেল অতিক্রম করেছে। সংবেদনশীল ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় শব্দের এমন তীব্রতায় নগরবাসীর জনস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

বারিন্দ এনভায়রনমেন্টের সহযোগিতায় ‘বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা’র উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকালে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পয়েন্টে শব্দমাত্রা পরিমাপ করা হয়। এতে সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রেলগেট এলাকায় সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০১.৫ ডেসিবেল।

পরবর্তীতে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর মোড়ে শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ১০২.৬ ডেসিবেল। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর একই স্থানে রেকর্ড করা ৯৭ ডেসিবেলের তুলনায় মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উভয় স্থানেই দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকৌশলী মো. জকির হোসেন খানের (পিএইচডি) নেতৃত্বে পরিচালিত এই পরীক্ষার টিমে যুক্ত ছিলেন ড. অলি আহমেদ, শামসুর রাহমান শরীফ, মো. ওবায়দুল্লাহ, রুমানা আহমেদ, ইফাত আরা, কলি আহমেদ, আবু তারেক বিন আজিজ ও রুহুল হাসান পলাশ। সংস্থাটি ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে একই সময়ে নগরীর মূল পয়েন্টগুলোতে এই তদারকি চালিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) ২০২২ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদনেও ঢাকাকে বিশ্বের প্রথম এবং রাজশাহীকে চতুর্থ সর্বাধিক শব্দদূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বর্তমান মাঠপর্যায়ের চিত্রটি সেই ভয়াবহতারই বাস্তব প্রমাণ।

পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া মো. জাকির হোসেন খান জানান, শব্দদূষণ বিধিমালা অনুযায়ী বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বেলায় অনুমোদিত শব্দসীমা ৭০ ডেসিবেল এবং হাসপাতালসংলগ্ন নীরব এলাকায় তা সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র এলাকা ও রেলগেটে ১০০ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রা থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি ও স্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপজ্জনক।

মূলত অনিয়ন্ত্রিত হাইড্রোলিক হর্ন, অযথা হর্ন বাজানোর প্রবণতা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিশৃঙ্খলাকেই এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ ও মানববন্ধনের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় ‘অপ্রয়োজনে হর্ন নয়’ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস