মুন্ডুমালা-সাতপুকুরিয়া সড়কের বেহাল দশায় জনভোগান্তি চরমে
সাইদ সাজু, তানোর থেকে: রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা-সাতপুকুরিয়া সড়কের বেহাল দশায় জনভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সেসব গর্তে পানি জমে থাকায় স্থানীয়দের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি বলে মনে করছেন চলাচলকারী পথচারীসহ এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা থেকে জটা বটতলা হয়ে গোদাগাড়ী যাওয়ার এই সড়কটি পাকাকরণ করা হয়। মুন্ডুমালা থেকে জটা বটতলা পর্যন্ত সড়কের সাতপুকুরিয়া থেকে জটা বটতলা অংশটি বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হলেও রহস্যজনক কারণে মুন্ডুমালা বাজার মোড় থেকে তানোর সীমানার সাতপুকুরিয়া পর্যন্ত অংশে গত ২৩ বছরেও কোনো সংস্কার করা হয়নি।
এলাকাবাসী ও পথচারীরা জানান, অতিগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের মুন্ডুমালা বাজার মোড় থেকে সাতপুকুরিয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন পড়ে আছে। ফলে রাস্তাটি ভাঙাচোরা অবস্থায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এসব গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
সাতপুকুরিয়া হাসনাপাড়া চৈরখৈর মহল্লার বাসিন্দা রায়হান আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে মুন্ডুমালা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুন্ডুমালা কেজি স্কুল, মুন্ডুমালা ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজসহ মুন্ডুমালার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী এবং হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বর্তমানে ভুটভুটি, মোটরসাইকেল, অটো ও অটোভ্যানে যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষার আগে সম্পূর্ণ সংস্কার সম্ভব না হলেও গর্তে অন্তত ইট বিছিয়ে ভরাট করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক মমিনুর ইসলাম মুন বলেন, গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার মানুষের জন্য এটি অতিগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। মাত্র ৪ কিলোমিটার ভাঙা রাস্তার জন্য দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে বর্ষার আগেই গর্তে ইট ও খোয়া দিয়ে সড়কটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার ধারে বাড়ি নির্মাণের কারণে রাস্তায় পানি জমে থাকে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। মুন্ডুমালা-সাতপুকুরিয়া সড়কের বেহাল দশায় জনভোগান্তি এখন চরমে। জরুরি ভিত্তিতে ইট, বালি ও খোয়া দিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নূর নাহার বলেন, কিছুদিন আগেই চৌবাড়িয়া ও মুন্ডুমালা সড়কের গর্তে ইট দেয়া হয়েছে এবং মেইনটেন্যান্সের জন্য ১৪টি রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অর্থ বছরে ওই রাস্তা সংস্কার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বর্তমানে মুন্ডুমালা-সাতপুকুরিয়া সড়কের ভাঙা রাস্তার গর্তে ইট ও খোয়া দিয়ে সংস্কার করার সুনির্দিষ্ট সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মুন্ডুমালা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন মুকুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পৌরসভার পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে গর্তগুলো ভরাট করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। রাস্তার ভাঙাচোরা ও গর্তের ছবি দিলে পৌর প্রশাসকের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে দেখব কী করা যায়। এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুন্ডুমালা পৌর প্রশাসক নাঈমা খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











