বাঘায় পর্নোগ্রাফি মামলার আসামিসহ চারজন গ্রেপ্তার
বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিসহ বিভিন্ন মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার ভোররাত থেকে দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বাঘা থানা-পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাঘা থানার একটি নিয়মিত মামলার (মামলা নং-৯(৬)/২৬) এফআইআরভুক্ত আসামি রাফিদ হাসান রাজ (২৪) রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)/৮(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে রাফিদকে বাঘা পৌরসভা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয় তিন যুবক এক ব্যক্তিকে আটক করে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায় এবং তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে পর্নোগ্রাফি তৈরি করে। এর মধ্যে এক পক্ষের মুখ ভিডিওতে ধারণ করা হয়নি, যা পুলিশের কাছে জব্দ রয়েছে।
ভুক্তভোগী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা আপত্তিকর ভিডিও তৈরির পর টাকা না দিলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে তিনি নগদ ১ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার টাকা দিলে আসামিরা তাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী থানায় এসে অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তের মধ্যে রাফিদকে আটক করে এবং ওই ভিডিওটি জব্দ করে।
এদিকে, যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় ১ বছর ২ মাসের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সজিব খানকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া মাদক মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত (পরোয়ানা) পলাতক আসামি নাহিদ ইসলাম ওরফে নাইট (২৭) এবং অপর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মনিরুল ইসলাম ওরফে জমজম (৪২)-কে নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নাহিদ ইসলাম বাঘা দক্ষিণ মিলিক (পন্ডিতপাড়া) গ্রামের শাহজাহানের ছেলে এবং মনিরুল ইসলাম কলিগ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল হক জানান, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোববার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।











