ঢাকা | জুন ৭, ২০২৬ - ১:৩২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পুঠিয়ায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ: বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • আপডেট: Saturday, June 6, 2026 - 10:15 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক নারীকে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতন, ধর্ষণ, ঘরে ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রাশিদা খাতুন (৪৬) সম্প্রতি পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন। গত ১ জুন তিনি ওই বাড়িতে কিছু মালামাল রেখে যান এবং ৪ জুন সেখানে বসবাস শুরু করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তাঁর বাড়ির সামনে এক কিশোরকে দেখতে পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে জড়িয়ে অপপ্রচার শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁর বাড়ির গেট ও জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এতে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘরে প্রবেশের পর অভিযুক্তদের একজন তাঁর ঘরে রাখা প্লাস্টিকের চালের ড্রামের ভেতরে থাকা একটি পার্স থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ৪ ভরি ৪ আনা ওজনের রুপার নূপুর, যার আনুমানিক মূল্য ২২ হাজার টাকা, চুরি করে নিয়ে যান। অপর একজন একটি ওপ্পো (ঙচচঙ) ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন নিয়ে যান, যার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় একজন অভিযুক্ত ঘরের দরজা বন্ধ করে অভিযোগকারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে অপর একজন নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে করে তাঁকে পুঠিয়া উপজেলার উল্লাপাড়া এলাকার একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে আরেক অভিযুক্ত এসে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী দাবি করেন, ঘটনার পর তাঁকে বাঁশবাড়ী বাজার এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়। পরে তিনি ভ্যানে করে নিজ বাড়িতে ফিরে যান এবং পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে যাঁদের আসামি করা হয়েছে তাঁরা হলেন, পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল হোসেন, মুরাদ হোসেন, জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ফিরোজ হোসেন, সুমন এবং পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য বুলবুল হোসেন। এছাড়া আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে কয়েকজন সাক্ষীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, স্থানীয় আরও অনেক ব্যক্তি ঘটনার বিষয়ে অবগত রয়েছেন।

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে, ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতার নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।