ঢাকা | মে ১৭, ২০২৬ - ১০:৩১ অপরাহ্ন

দুর্গাপুরে শিশু হুমায়রার মরদেহ আটকে বিক্ষোভ

  • আপডেট: Sunday, May 17, 2026 - 10:00 pm

সন্দেহভাজনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর:

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুরে চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাতের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স থেকে শিশুটির মরদেহ নামানো হয়। রোববার বিকেলে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সন্দেহভাজন রাজীব হাসান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে রাজীবের বাড়িটি পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘিরে রেখেছেন। অভিযুক্ত রাজীব শিশু হুমায়রার বাবা হাসিবুলের চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বেলা ৩টার দিকে শিশু হুমায়রা জান্নাতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারে আনা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় জানাজার নামাজ শেষে তার দাফনের কথা ছিল। তবে এর আগেই গ্রামবাসীর উদ্যোগে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এতে অংশ নেন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মরদেহ দাফনে বাধা দিয়ে চার ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পুঠিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। তাদের হস্তক্ষেপে ও আশ্বাসে দুই ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স থেকে হুমায়রার মরদেহ নামানো সম্ভব হয়। তবে এর মাঝেই বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন রাজীব হোসেনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেয়া স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানান, গত শনিবার দুপুরে রাজীবের বাড়ির সামনে থেকেই শিশু হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে শুরু থেকেই সন্দেহের তীর তার দিকেই। পুরো গ্রামবাসী বিষয়টি জানলেও পুলিশ প্রশাসন প্রথমে তার বাড়িতে তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। মূলত এই ক্ষোভ থেকেই জনতা লাশ আটকে বিক্ষোভ করে এবং রাজীবের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, আমি নিজে ঘটনাস্থলে আছি, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিশুর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। আমরা ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্তের অগ্রগতি পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু হুমায়রা জান্নাত। সে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী হাসিবুল হোসেন শান্তর মেয়ে। নিখোঁজের পরদিন গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশ থেকেই তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।