ঢাকা | মে ১৩, ২০২৬ - ৪:০১ পূর্বাহ্ন

লালপুরে সাইবার প্রতারণা চক্রের তিন সদস্য আটক

  • আপডেট: Saturday, May 9, 2026 - 10:10 pm

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাক করে প্রবাসী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সাইবার প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন, লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া গ্রামের দোয়াবরের ছেলে রাজন আলী (৩১), বাঘা উপজেলার চক-নায়ের গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে আহাদ আলী (১৯) এবং একই এলাকার তুহিন আলীর ছেলে মো. তুষার আলী (২০)।

থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে লালপুর থানার একটি চৌকস দল দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দুড়দুড়িয়া গ্রামের রাজন আলীর বাড়িতে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার কার্যক্রম চলছিল বলে জানতে পারে পুলিশ। এ সময় চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পাশাপাশি প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, চক্রের সদস্যরা স্থানীয় ও প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতেন। পরে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আদায় করতেন। এ ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৬ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে গত ১ মে একই ইউনিয়ন থেকে চক্রটির আরও পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে ইমো হ্যাকিং চক্রের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তা দুড়দুড়িয়া, লালপুর সদর, আড়বাব ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী বাঘা উপজেলার কিছু অংশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবকদের একটি অংশ এই অবৈধ হ্যাকিং চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের আয়ের দৃশ্যমান কোনো উৎস না থাকলেও অনেকে ইতোমধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া তাদের অধিকাংশই মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।