দুর্গাপুরে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সজনে যাচ্ছে সারাদেশে
মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে সজনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঝোড়ো হাওয়া না থাকায় এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় খুশি স্থানীয় চাষিরা। উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের রাস্তার ধার, জমির আইল ও বাড়ির আঙিনায় এখন গাছে গাছে ঝুলছে সজনে।
উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ ও হাট-বাজারের মোড়গুলোয় এখন সজনে বিক্রির ধুম পড়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব সজনে ট্রাকে করে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি সজনে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ভর মৌসুমে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
দেবীপুর গ্রামের গৃহিণী রহিমা বিবি জানান, সজনে চাষে বাড়তি কোনো খরচ নেই। গত বছর বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার ধারে ২০টি ডাল পুঁতে রেখেছিলেন, যা থেকে এবার ফলন এসেছে। গত এক মাসে তিনি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকার সজনে বিক্রি করেছেন। শ্যামপুর গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, সজনে গাছ নরম হওয়ায় ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যাপ্ত ফলন হয়েছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছি।
ঢাকা থেকে আগত ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, তিনি দীর্ঘ বছর ধরে দুর্গাপুরসহ রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে সজনে কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। এ বছর সজনের মান ও দাম দুই-ই সন্তোষজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। আরেক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঢাকার কাওরান বাজারে এখানকার সজনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় তারা প্রতিদিন সজনে সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহারা পারভীন লাবনী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এবার উপজেলায় প্রচুর সজনে উৎপাদিত হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে, রাস্তার ধারে ও অনাবাদি জমিতে সজনে চাষ বেশি হয়। বেশির ভাগ মানুষ পারিবারিক চাহিদার জন্য গাছ লাগালেও বাম্পার ফলন হওয়ায় তারা এখন বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।










