পবায় বৈরাগীর খাল পুনঃখননে ফিরবে কৃষির প্রাণ: এমপি মিলন
স্টাফ রিপোর্টার: পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বৈরাগীর খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মধ্য দিয়ে পারিলা ইউনিয়নের বৈরাগীর খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ডালিতে মাটি পরিবহন করেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-৩০ অর্থবছরের মেয়াদে দেশের ৬৪টি জেলায় প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খননযোগ্য খালের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেই কর্মসূচির আওতায় পবা উপজেলার বৈরাগীর খালের তিন কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে।
পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈরাগীর খালের জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৬ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খালের পানি ফলিয়ার বিল হয়ে দুর্গাপুর উপজেলার প্রধান নদী হোজা নদীতে গিয়ে মিলিত হবে। ফলে কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, এই পুনঃখনন কার্যক্রমের সুফল পাবেন প্রায় ২০ হাজার পরিবার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, “খাল পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি কৃষক, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সঙ্কট, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যায় ভুগছেন। বৈরাগীর খাল পুনঃখনন হলে এই অঞ্চলের কৃষিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসবে।”তিনি আরও বলেন, “সরকার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। উন্নয়ন যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব সুফল বয়ে আনে সেই লক্ষ্যেই এসব প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষির উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে খাল পুনঃখননের মতো কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন। অনুষ্ঠানে আরোও উপস্থিত ছিলেন পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোরশেদ, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক রেজাউল করিম, সদস্য সচিব মোখলেসুর রহমান রেন্টু, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামিনসহ বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, পবা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।











