শিয়ালের মুখ থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়া আয়মান সুস্থ হচ্ছেন
মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে : ১৬ মাসের ফুটফুটে শিশু আয়মান ইসলাম। বাড়ির বারান্দায় খেলতে বসিয়ে মা কাজ করছিল উঠানে। হঠাৎ বাগান থেকে উঠে আসা এক শিয়াল আয়মানের ঘাড়ে কামুড় দিয়ে তুলে নিয়ে যায় ১৫ থেকে ২০ হাত দুরে।
বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পান উঠানে কাজ করা আয়মানের মা আরিফা বেগম। মূহুর্তেই দৌড়ে জোরে চিৎকার দিলে শিয়ালকে মুখ থেকে মাটিতে ফেলে দেয় আয়মানকে।
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার সময় নওগাঁ নজিপুর উপজেলার ফয়েমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিনই শিশু আয়মানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
আয়মানের বাবা পলাশ আহমেদ জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকালে আয়মানের মা আরিফা ছেলে আয়মানকে বারান্দায় বসিয়ে উঠানে কাজ করছিল। একটু পর তাকিয়ে দেখেন আয়মানকে কামুড় দিয়ে শিয়াল মুখে করে নিয়ে যাচ্ছে জঙ্গলের দিকে। এমন সময় আয়মানের মা জোরে চিৎকার করে শিয়ালকে পিছন থেকে ধাওয়া করলে শিয়াল আয়মানকে মাটিতে ফেলে দেয়।
পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর থেকে চিকিৎসা চলছে। আয়মানের মাথার নিচে ঘাড়ে শিয়ালের দুই দাঁতের ক্ষত হয়েছে। সে এখন ভাল আছে।
হাসপাতালে কান্না জড়িত কন্ঠে আয়মানের মা আরিফা বেগম বলেন, চোখের পলকে শিয়াল তার আয়মানকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। দেখতে না পেলে বড় ধরনের অঘটন ঘটত। আমাদের বাড়ির চারপাশেই বাগান রয়েছে। সেখানে প্রায়ই শিয়াল আনাগোনা করে। কোনদিন ভাবতেই পারিনি শিয়াল আমার বাচ্চাকে ঘাড় কামড়ে তুলে নিয়ে যাবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের কতব্যরত চিকিৎসকরা জানান, আয়মান এখন ভাল আছেন। তার চিকিৎসা চলছে। ঘাড়ে শিয়ালের দুটি দাঁতের ক্ষত রয়েছে। সিনিয়র চিকিৎসকরা দেখে সেলাই লাগবে কী না এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। এজন্য আয়মান আরও কয়েকদিন হাসপাতালে থাকা লাগতে পারে।











