রামেক হাসপাতালে সাড়ে ৬ মাস নেই জলাতঙ্ক টিকা
নিজস্ব উদ্যোগে সংগ্রহের চেষ্টা কর্তৃপক্ষের:
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দীর্ঘ সাড়ে ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক টিকার (এআরভি) সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জীবনরক্ষাকারী এই টিকার সঙ্কটে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসা প্রত্যাশীরা।
তবে সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও দ্রুতই নিজস্ব উদ্যোগে পুনরায় টিকা প্রদান শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ জন রোগী কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসেন। সে হিসেবে মাসে অন্তত সাড়ে ৮ হাজার টিকার প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ সময় কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ না থাকায় সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন রাশেদ রিপন জানান, হাসপাতালে সরকারি ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা হতাশ। বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে একেকটি টিকা ৪৮০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী সঞ্জয় রায় ও বাঁধন হোসেন। তারা জানান, জলাতঙ্কের মতো একটি প্রাণঘাতী রোগের টিকা সরকারি হাসপাতালে না থাকাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে, সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকলেও মাঝের সময়টাতে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে টিকা কিনে রোগীদের বিনামূল্যে সেবা দিয়েছে। তবে ফান্ডের সীমাবদ্ধতায় গত কয়েকদিন সেই কার্যক্রমও থমকে যায়।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, সাড়ে ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো সরবরাহ নেই। এর মধ্যেও আমরা স্থানীয়ভাবে কিনে রোগীদের বিনামূল্যে সেবা দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। বর্তমানে কিছুটা সমস্যা হলেও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে স্থানীয় ফান্ড সংগ্রহ করে আবারও বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
টিকার গুরুত্ব ও সরকারি উদ্যোগের অনিবার্যতা:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুরো উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসাসেবার প্রধান কেন্দ্র। এখানকার সরবরাহ বন্ধ থাকলে রাজশাহীসহ আশেপাশের জেলাগুলোর কয়েক লাখ মানুষের বিকল্প কোনো নির্ভরযোগ্য জায়গা থাকে না।
জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও, এর লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। এই বাস্তবতায় রামেক হাসপাতালে টিকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে) প্রথম ডোজ টিকা দেয়া অত্যন্ত জরুরি। সরকারি হাসপাতালে টিকা না থাকলে দরিদ্র রোগীদের পক্ষে তাৎক্ষণিক বাইরে থেকে কেনা সম্ভব হয় না, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, জলাতঙ্ক ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর যদি সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া হয় এবং লক্ষণ দেখা দেয়, তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও রোগীকে বাঁচানোর কোনো উপায় নেই। তাই একে অবহেলার সুযোগ নেই।











