ঢাকা | এপ্রিল ১৯, ২০২৬ - ১:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

নগরীর রাস্তা সম্প্রসারণে কাটা হলো ৩০টি কাঠবাদামের গাছ

  • আপডেট: Saturday, April 18, 2026 - 10:17 pm

স্টাফ রিপোর্টার: মহানগরীর রাস্তা সম্প্রসারণের কাজের অংশ হিসেবে ৩০টি কাঠবাদামের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। নগরের রাজীব চত্বর থেকে কলাবাগান হয়ে ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের একপাশজুড়ে ছায়া ও প্রশান্তি ছড়ানো গাছগুলো গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে কাটা হয়। এ ঘটনায় নগরজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে ২০১০ সালের দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০টি কাঠবাদামের গাছ রোপণ করে। দীর্ঘ ১৬ বছরে এসব গাছ বড় হয়ে ওঠে এবং নিয়মিত ফলও ধরত। তবে সম্প্রতি ওই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের পর সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়ায় গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে।

শনিবার গিয়ে দেখা যায়, এরই মধ্যে ২৩টি গাছ কাটা হয়েছে এবং বাকি সাতটি কাটার কাজ চলছিল। কোথাও শ্রমিকরা গাছে উঠে ডাল কাটছেন, আবার কোথাও গোড়ায় করাত দিয়ে গাছ ফেলা হচ্ছে। অনেক পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাকে এ দৃশ্য দেখে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিম বলেন, “এ এলাকায় যানবাহনের তেমন চাপ নেই। অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাছ কাটা ঠিক হয়নি। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, তা বুঝতে পারছি না।” গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সরদার গাজি জানান, আটজন শ্রমিক তিন দিন ধরে গাছ কাটার কাজ করছেন। সিটি করপোরেশন থেকে নিলামে কিনে নেয়া এক ব্যবসায়ী এই গাছগুলো কাটছেন।

এ বিষয়ে রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান বলেন, বন বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী নিয়ম মেনে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তিনি জানান, ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে সড়কের একপাশের প্রস্থ কমে যাওয়ায় তা বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সড়কের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটারও হচ্ছে না। তাই গাছগুলো কেটে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনের ওপর দিয়ে ফুটপাত নির্মাণ করা হবে এবং পরে সেখানে নতুন করে গাছ লাগানো হবে।”

তবে উন্নয়নের নামে গাছ কাটার এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন পরিবেশবাদীরা। বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, “নতুন গাছ লাগানোর আশ্বাস দিয়ে পুরোনো গাছ কেটে ফেলা কোনো টেকসই সমাধান নয়। গাছ রেখেও উন্নয়ন সম্ভব- এই ভাবনাটি এখনো প্রকৌশলীদের মধ্যে দৃশ্যমান নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরিবেশের জন্য আত্মঘাতী।”