ঢাকা | এপ্রিল ১৯, ২০২৬ - ৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাগমারায় অস্ত্রসহ জনতার হাতে আটক কিশোরকে উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ

  • আপডেট: Saturday, April 18, 2026 - 10:22 pm

বাগমারা প্রতিনিধি: বাগমারায় হামলা চালাতে গিয়ে অস্ত্রসহ জনতার হাতে আটক হওয়া কিশোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং আটক কিশোরকে থানায় নেয়। উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনোদপুর মরাকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ওই কিশোর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বিনোদপুর মরাকুড়ি গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে ১০-১২ জন প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বসবাস করা জায়গা প্রতিপক্ষ রেজাউল ইসলামের দাবি করে ছেড়ে দিতে বলে। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তারা হামলার চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় ওই কিশোরকে আটক ও তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ডি এম জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদাপোশাকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের সদস্যরা পৌঁছেই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে লাঠিপেটা শুরু করেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন। পরে তাঁরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানান। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শত শত নারী-পুরুষ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে রাত ১১টার দিকে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অবরুদ্ধ থাকা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয় এবং ওই কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিনোদপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও রেজাউল করিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তাঁরা পরস্পরের চাচাতো ভাই। ওই জমিতে সম্প্রতি সাদ্দাম হোসেন পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রেজাউল করিম জমিটি নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেন। এর মধ্যে তিনি ভাড়াটে লোকজন নিয়ে জায়গাসহ বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার জমিতেই বাড়ি তৈরি করেছি, বসবাসও শুরু করেছি। এখন ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে পরিবারকে উচ্ছেদ করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে রেজাউল করিম বলেন, ‘বাড়িটি আমার, সাদ্দাম দখল করে নিয়েছে। আমি বাড়িতে থাকার জন্য বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসছিলাম। সাদ্দাম হোসেন উল্টো লোকজন নিয়ে মব তৈরি করেছে।’ হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ডি এম জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে নির্মাণাধীন বাড়ি নিয়ে বিরোধ ছিল। রাতে একজনকে আটকে রাখা হয়েছে জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। পরে আটক কিশোরকে উদ্ধার করলেও নিয়ে আসা যাচ্ছিল না। সাদ্দাম হোসেনের লোকজন মব তৈরি করে। পরে ওসি স্যারের সহযোগিতায় উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’ তিনি সাদাপোশাকে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, তড়িঘড়ি করে যাওয়াতে পোশাক পরা যায়নি।