ঢাকা | এপ্রিল ১৬, ২০২৪ - ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ

  • আপডেট: Saturday, March 16, 2024 - 12:22 am

স্টাফ রিপোর্টার: আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এসকে অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌরিদ আল মাসুদ রনি এবং তার সহযোগী মাহাতাব উদ্দিন চন্দনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ করেছেন গ্রীন প্লাজা রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

একইসঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুলিশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, সি.আই.ডি হেডকোয়ার্টার্স, র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সসহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবরও একই অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এ সকল অভিযোগকে একেবারেই ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন যুবলীগ নেতা তৌরিদ আল মাসুদ রনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, ‘আমার সাথে আবু হানিফ ২৮/১১/২০২২ এবং ০৫/০১/২০২৩ তারিখে একটি চুক্তিপত্র ও একটি আমমোক্তার নামা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদন করেন এবং আমার নিকট হইতে মোট দুই কোটি ৩২ লক্ষ টাকা সাক্ষীদের উপস্থিতিতে গ্রহণ করেছেন এবং উক্ত তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি আমাকে দখলসহ জমির সকল দলিল, বায়া দলিল,খাজনা রসিদ, ডিসিআর রনিদ, প্রস্তাবিত খতিয়ান সহ সকলপ্রকার মূল কাগজপত্র বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে এসকে অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গল রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌরিদ আল মাসুদ রনি নিযুক্তীয় মাহাতাব উদ্দিন চন্দন উক্ত জায়গা পাওয়ার লোভে পেশীশক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে গ্রীন প্লাজা রিয়েল এস্টেট এর সাইন বোর্ড ভাংচুর করে উচ্ছ্বেদ করার পরিকল্পনা করে এবং পাওনাকৃত দুই কোটি ৩২ লাখ টাকা দিতে হবেনা, মামলা-মোকদ্দমা হলে আমরা সব দেখব বলিয়া ভূমি মালিক আবু হানিফ কে প্রলোভিত করিলে আবু হানিফ প্রলোভিত হইয়া যোগসাজশে তাদের কুপরিকল্পনায় লিপ্ত হয়ে আমাকে ‘জায়গা ও টাকা দিবে না, দলিল কীভাবে উঠাতে হয় সে ব্যবস্থা করব’ বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

সেই সময় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোকদ্দমা নং- পি-১২৬৬/২০২৩ দায়ের করিলে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক উক্ত তফশীল বর্ণিত সম্পত্তির ওপর ১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি হয় যা অদ্যবধি চলমান রহিয়াছে। পরবর্তীতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা নং- ২১৮/২০২৩ দায়ের করিলে ধার্য্য তারিখ আগামী ২১/০৫/২০২৪ ইং যাহা অদ্যবধি চলমান। উক্ত মোকদ্দমায় তফশীল বর্ণিত সম্পত্তির সকল দলিল, বায়া দলিল, খাজনা রসিদ, ডিসিআর রসিদ, প্রস্তাবিত খতিয়ানসহ সকল প্রকার মূল কাগজপত্র দলিলাদি ফিরিস্তিযোগে বিজ্ঞ আদালতে জমা রয়েছে। আমার প্রদানকৃত অর্থ ফেরৎ দিতে অস্বীকার করলে বিজ্ঞ আমলি আদালত বোয়ালিয়া সিআর নং ১৩৫৫/২০২৩ মামলা দায়ের করি। এবং পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে বিজ্ঞ আদালত তাকে গত ২৮/১২/২০২৩ তারিখে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করলে ০৭/০৩/২০২৪ তারিখ আসামী আবু হানিফ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক অন্তরবর্তীকালীন ধার্য তারিখ ১৩/০৩/২০২৪ ইং পর্যন্ত জামিন প্রাপ্ত হন।’

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘এমতাবস্থায়, অসদুপায়ী গ্রহিতা এসকে অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গল রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌরিদ আল মাসুদ রনি এবং অসদুপায়ী দাতা ভূমিমালিক আবু হানিফ কর্তৃক বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে যোগসাজসে ০৭/০৩/২০২৪ তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টায় জেলখানা হতে জামিনে বের হয়ে ০৯/০৩/২০২৪ ইং তারিখ শনিবার ডিসিআর সহ সমস্ত প্রকার মূল দলিলপত্র বিজ্ঞ আদালতে সংরক্ষিত থাকাবস্থায় কমিশনে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় তা প্রচার করেন। বিধায় ‘বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গ করে ০৯/০৩/২০২৪ তারিখ শনিবার এ সম্পাদিত চুক্তিপত্র ও আমমোক্তার নামা দলিলের সকল প্রকার কার্যক্রম’ বন্ধ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ কাির আরজি জানানো হয়।

এছাড়াও অভিযোগে যুবলীগ নেতা রনি বিএনপির এজেন্ট হিসেবে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে যোগদান করেছেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী মোস্তাফিজ। একইসঙ্গে সম্প্রতি ঢাকার বার কাউন্সিল নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সন্ত্রাসী কার্যক্রমেও রনি জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ নিয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারী মোস্তাফিজ বলেন, যুবলীগ নেতা রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ায় ইতিমধ্যেই তিনি আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। ‘তুই ওয়েট কর, আমি রাজশাহী আসছি’ হোয়াটসঅ্যাপে এমন হুমকিমূলক বার্তাও পাঠাচ্ছেন। এ নিয়ে অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমার দলবল নেই। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। প্রতারক আবু হানিফ জামিনে বের হয়ে যুবলীগ নেতা রনি ও তার দলবল নিয়ে বিভিন্ন সময় আমাকে হত্যা হুমকিসহ রাজশাহী থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও হানিফ ও তার ছেলে আমার প্রজেক্টে এসে যুবলীগের দলবল নিয়ে ভাংচুর করেছে। আমার লোকজনকে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগে যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আমার গাড়ীর পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন দড়িখড়বোনা মোড়ে। এ কারণে আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‌্যাব, পুলিশ, আদালতে তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা জনিত বিষয়ে অভিযোগ করেছি। আদালতের আইন অমান্য করে তারা জালিয়াতি করায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেছি। এর একটি সুষ্ঠু বিচার আমি দাবি করছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জন্য আবু হানিফের মোবাইলফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। একই অভিযোগে এসকে অ্যন্ড ট্রায়াঙ্গল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌরিদ আল মাসুদ রনি সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তার (অভিযোগকারী মোস্তাফিজের) অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে আমার মতো কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়ী কখনও ওই জায়গায় ইনভেস্ট করে? তেমন কোনো নিষেধাজ্ঞাই নাই। এসব তার (অভিযোগকারী মোস্তাফিজের) মনগড়া কথা।’

এনিয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার (বিপিএম) বলেন, অভিযোগ সম্পর্কে এখনো সঠিকভাবে জানা নেই। তবে যদি মামলা হয়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।