ঢাকা | অক্টোবর ২২, ২০২৬ - ১০:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পুঠিয়ায় বেপরোয়া মাদক কারবারিরা, ধরাছোঁয়ার বাইরে ব্যবসায়ীরা

  • আপডেট: Thursday, October 22, 2026 - 10:04 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় মাদক কেনাবেচা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঝেমধ্যে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আটক করে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হলেও চিহ্নিত কয়েকজন মাদক কারবারি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

তাঁদের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এতে পুঠিয়া ও বেলপুকুর থানা এলাকায় মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদিবাসীপাড়ায় চোলাই মদ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এক সময় সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালিয়ে চোলাই মদ তৈরির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ওই এলাকায় চোলাই মদ উৎপাদন ও বিক্রি আবারও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর ধরে নতুন কৌশলে চোলাই মদ বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত কোমল পানীয়ের বোতল সংগ্রহ করে সেগুলোতে চোলাই মদ ভরে চড়া দামে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের মদ পান করে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং মাতাল অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকছেন। কেউ কেউ মদ কিনতে এসে চুরির ঘটনাও ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এসব বিষয়ে একাধিকবার থানায় মৌখিক অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাঁদের ভাষ্য, আদিবাসীপাড়া থেকে পুঠিয়া থানার দূরত্ব প্রায় ৪০০ মিটার। অন্যদিকে রাজশাহী থেকে এসআরবি-৫-এর সদস্যরা সেখানে অভিযান চালালেও স্থানীয় থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে উপজেলার পুঠিয়া বাজার, বারইপাড়া, কাঁঠালবাড়িয়া, পীরগাছা, সদ্দারপাড়া, দুদুর মোড়, কৃষ্ণপুর, গোপালহাটি, কান্দ্রা গুচ্ছগ্রাম, মোল্লাপাড়া, পচামাড়িয়া, সাতবাড়িয়া, বাসুপাড়া, কার্তিকপাড়া, যশোপাড়া, জগোপাড়া, সুবর্ণপাড়া, ধোপাপাড়া, ফুলবাড়ী, নামাজগ্রাম, শিবপুর বাজার, বানেশ্বর হাট, পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম ও ঝলমলিয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বেলপুকুর থানা এলাকার জামিরা, ডিসির মোড় ও বগারটেকসহ বিভিন্ন স্থানেও মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

আদিবাসীপাড়ার কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সদস্য এ উপজেলায় কর্মরত থাকায় তাঁদের সঙ্গে কারবারিদের সখ্যতা গড়ে উঠেছে।

এর ফলে তাঁরা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এ ছাড়া আদিবাসীপাড়ায় চোলাই মদ তৈরির উপকরণ সরবরাহ এবং কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীর নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কারণে মাদক উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় ট্যাপেন্টাডল, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও চোলাই মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকজন মাদক বিক্রেতার দাবি, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া দীর্ঘদিন এ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা মাঝেমধ্যে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আটক করে কারাদণ্ড ও জরিমানা করলেও চিহ্নিত বড় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বিভিন্ন দলীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে মাদক কারবার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নির্দেশনা ও উদ্যোগের পরও উপজেলায় মাদক কেনাবেচা বন্ধ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পুঠিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী ‘খ’ অঞ্চলের সার্কেল পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।”