ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ - ১১:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

২ মাসে রাজশাহীতে ২০ নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার

  • আপডেট: Wednesday, September 30, 2026 - 10:23 pm

স্টাফ রিপোর্টার: গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই দুই মাসে রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে অন্তত ২০ জন নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, সহিংসতা, হত্যা ও আত্মহত্যার মতো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা ‘লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার’ (লফস)-এর ডকুমেন্টেশন সেলের এক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রচারিত দৈনিক পত্রিকাসমূহে প্রকাশিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়।

লফসের পর্যালোচনায় বলা হয়, রাজশাহী অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি ঘটছে। প্রধানত যৌতুক, পরকীয়া, পারিবারিক কলহ ও প্রেমঘটিত বিরোধের কারণেই সিংহভাগ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

সংস্থাটির মতে, বিদেশি কিছু টিভি সিরিয়াল পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে, যার প্রভাবে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অঙ্গচ্ছেদ ও আত্মহত্যার মতো অমানবিক ঘটনা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনার মধ্যে রয়েছে—বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ; এসএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেয়ে কারিনা পাল নামে এক ছাত্রীর আত্মহত্যা; কাটাখালী থানার কাকাইলকাটি গ্রামে ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ; এবং নগরীর গোরাঙ্গা এলাকা থেকে মাহিম নামে এক শিশু ও পবার কর্ণহার থেকে আতিক বিশ্বাস রাব্বি (১৩) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের নিখোঁজ থাকা।

এ ছাড়া পুঠিয়ায় পরিবারের শাসনে অভিমান করে শাওন (১৬) নামের এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নৃশংস অপরাধের মধ্যে রয়েছে—মোহনপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ফাহিমা (৪২) নামের এক নারীর হাতের কব্জি কেটে নেওয়া; বাঘার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে জুসি খাতুন নামে গৃহবধূকে স্বামী কর্তৃক কুপিয়ে হত্যা; এবং মোহনপুরের সরদারপাড়া গ্রামে ছেলে কর্তৃক মা জান্নাতুনকে (৫৫) হত্যা।

এ ছাড়া পবায় শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগ, মোহনপুরে নুর জাহান (৬৫) নামের এক বৃদ্ধাকে নির্যাতন, তানোরে সম্পত্তির বিরোধে হিরা বিবি এবং আর্থিক সংকটে বাঘায় মরিয়ম (৩২) নামে এক গৃহবধূর বিষপানের চেষ্টা চালানোর ঘটনাও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে তানোরের হাসিনা বিবি (৩৫), বাঘার রিতা খাতুন (৩০) এবং মতিহারের স্বর্ণা খাতুনের আত্মহত্যার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রাঙ্গণেও এমন ঘটনা দেখা গেছে—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগ, মতিহারে শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে কোপানোর চেষ্টা এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক ছাত্রীকে কর্মচারীর যৌন হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ছাড়া বাগমারার যোগীপাড়া থেকে দুই নারী নিখোঁজ রয়েছেন।

রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের এই চিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে লফসের নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও সমাজে বহু ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়। প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত হতাশাজনক। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস