ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ - ১১:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শিবিরের ‘সাথী’ পদ হারালেন রাকসুর সালাউদ্দিন আম্মার

  • আপডেট: Wednesday, September 30, 2026 - 10:26 pm

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক অনিয়মের দায়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।

বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান। তিনি জানান, ২০২৫ সালের কিছু সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল স্বাক্ষরিত চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের এক সাংগঠনিক চিঠির সূত্রে জানা যায়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন, সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

এসব কারণে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সালাউদ্দিন আম্মারের সাথী পদ মুলতবি করা হয়। পরবর্তীতে উত্থাপিত অভিযোগের উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে তাঁর সাথী পদ চূড়ান্তভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সালাউদ্দিন আম্মারের নানা কর্মকাণ্ড ও ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তাঁর অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রমে কোনো ধরনের ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে রাকসুর দাপ্তরিক প্রয়োজনে নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন বলে জানানো হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমান রাকসু সহসভাপতি (ভিপি) মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত পৃথক এক চিঠিতেও আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর ও জেলা কমিটিতে পদ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ ফেব্রুয়ারির সেক্রেটারিয়েট সভায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁর পদ প্রাথমিক মুলতবি করা হয়েছিল। এসব অভিযোগ ও পদ বাতিলের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস