নগরীতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ও মাঝিদের পাশে ডিসি
স্টাফ রিপোর্টার: রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বড় ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তীরবর্তী মাঝি ও জেলেরা। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে কারও একমাত্র জীবিকার অবলম্বন নৌকা তলিয়ে গেছে, আবার কেউ নৌকা বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। দিশেহারা এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম।
শনিবার সকালে তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। জানা গেছে, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকার পদ্মায় হঠাৎ পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। মুহূর্তের মধ্যেই সমুদ্রের মতো বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়তে থাকে। এতে তীরে বেঁধে রাখা নৌকাগুলো প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। এ সময় একটি নৌকা ভেসে যায় এবং অপর একটি নৌকা পানিতে তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে নষ্ট হয় নৌকায় থাকা মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
জলোচ্ছ্বাসের রাতে প্রতিবেশী শাহজামাল মাঝির নৌকা ভেসে যাওয়া ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন রিমোন হোসেন ও তাঁর স্ত্রী। নৌকার ধাক্কায় রিমোনের পা ভেঙে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে উপার্জন করতে অক্ষম রিমোন বলেন, পায়ের এই অবস্থায় কোনো কাজ করতে পারছি না। সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছিলাম না। আজ ডিসি স্যার নিজে এসে পরিবারের জন্য এক মাসের খাবার ও চিকিৎসার নগদ টাকা দিয়েছেন। এই বিপদে এটি আমাদের বড় ভরসা। শাহজামাল মাঝি তাঁর নৌকা রক্ষার জন্য রিমোন দম্পতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ এত বড় ঢেউ উঠবে, তা কল্পনাও করিনি। ডিসি স্যার এসে আমাদের কষ্টের কথা শুনেছেন এবং দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন—এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
অন্যদিকে, আকস্মিক এই ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন জারজিস মাঝি। তাঁর একমাত্র নৌকাটি জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতির শিকার জারজিস আক্ষেপ করে বলেন, ‘সর্বনাশা পদ্মার ঢেউ এক রাতেই আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এই নৌকাই ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ। তবে ডিসি স্যার খোঁজ নিয়ে খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ায় অনেক উপকার হয়েছে।’
শনিবার সকালে টি-বাঁধের বটতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলা শেষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতের হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছি। তাদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পবা উপজেলার মধ্যচরে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সার্কিট হাউজে পরিচ্ছন্নতা অভিযান:
এদিকে, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন, রাজশাহীর আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সামাজিক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
কর্মসূচিতে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বসতবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র ও টায়ারে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।











