বৃষ্টিতেই উঠে গেল কার্পেটিং, রাজশাহী স্টেডিয়ামের কাজ বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টার: সামান্য বৃষ্টিতেই কার্পেটিং উঠে উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে নিচের মাটি, অনেক স্থানে মেলেওনি খোয়া বা পাথরের দেখা। মাটি ও বালুর ওপর সামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে নামকাওয়াস্তে সারানো হচ্ছিল সড়ক।
শুধু রাস্তা নির্মাণই নয়, গ্যালারি ও সীমানা প্রাচীর রঙ করার ক্ষেত্রেও মানা হয়নি অনুমোদিত শিডিউল। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজে এমন ব্যাপক অনিয়মের চিত্র সামনে আসার পর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থা।
রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় অবস্থিত এই বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামটিতে প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে বর্তমানে আধুনিকায়ন, রঙ করা ও সড়ক সংস্কারের কাজ করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
স্টেডিয়াম সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে স্টেডিয়ামের ভেতরের নতুন আরসিসি রাস্তা নির্মাণ এবং প্রবেশপথ সংস্কারের কার্যাদেশ পায় ‘সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে, পুরো স্টেডিয়াম রঙ করা এবং গ্যালারিতে নতুন শৌচাগার নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় ‘দেশবন্ধু এন্টারপ্রাইজ’ নামে অপর এক ঠিকাদারকে।
স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে দেখা যায়, নবনির্মিত প্রবেশপথের কার্পেটিং এরই মধ্যে উঠে যেতে শুরু করেছে। উপস্থিত রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ও বিসিবির কাউন্সিলর মোজাদ্দেদ জামানীকে চাবি দিয়ে সড়কের আঁচড় কাটতে দেখা গেলে বেরিয়ে আসে আসল চিত্র। সড়কের নিচে কোথাও খোয়া বা পাথরের দেখা মেলেনি; কেবল মাটির ওপর বালু ও হালকা বিটুমিনের প্রলেপ দিয়ে কার্পেটিং সম্পাদন করা হচ্ছিল। অনিয়মের থাবা থেকে বাদ পড়েনি রঙের কাজও।
পুরো গ্যালারি ঘুরে দেখা গেছে, রঙ সঠিকভাবে না বসায় এখনই তা নষ্ট হতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে কাজ চলাকালে শিডিউলভুক্ত বার্জার পেইন্টসের পরিবর্তে অন্য প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের রঙ ব্যবহার করতে দেখা যায় মিস্ত্রিদের। জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী তাৎক্ষণিকভাবে রঙমিস্ত্রিদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। কাজ করা রঙমিস্ত্রি ফিরোজ ইসলামও শিকার করেন যে, শিডিউলে বার্জার পেইন্টসের কথা লেখা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের অন্য ব্র্যান্ডের রঙ সরবরাহ করা হয়েছিল।
নিম্নমানের রঙ ব্যবহারের বিষয়ে কাজের সাব-ঠিকাদার ফজলে রাব্বি খান সাংবাদিকদের জানান, মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে তিনি কাজটি নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, শিডিউলের বাইরে যেসব রঙ ব্যবহার করা হচ্ছিল তা বার্জারের চেয়ে উন্নত। কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনুরোধ সামলাতেই কিছু ভিন্ন রঙ ব্যবহার করতে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে স্টেডিয়ামের ভেন্যু ব্যবস্থাপক সাইফুল্লাহ খান জেম সাংবাদিকদের জানান, কাজের চরম নিম্নমান ও তছরুপের বিষয়টি তিনি শুরুতেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানকে লিখিত ও আলোকচিত্রসহ অবহিত করেছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় প্রকৌশল দপ্তর থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, কাজের নিম্নমানের কারণে ঠিকাদারের চূড়ান্ত বিল আটকে দেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী যথাযথ কাজ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত কোনো বিল ছাড় করা হবে না এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিকাদারদের দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ অংশগুলো পুনর্র্নিমাণ করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন সাংবাদিকদের জানান, সহকারী প্রকৌশলীকে সরেজমিনে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে নিম্নমানের কাজসমূহ সংশোধনপূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।











