ঢাকা | অগাস্ট ২৫, ২০২৬ - ১১:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল

  • আপডেট: Tuesday, August 25, 2026 - 10:30 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে শুরু করে জেলা সড়কে বেপরোয়া গতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে থামছেই না মর্মান্তিক মৃত্যুর মিছিল। রাজশাহী মহানগর ও জেলাজুড়ে গত এক বছরে ১৬৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৬০টি তাজা প্রাণ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে পুলিশ দুর্ঘটনাজনিত ১৬৯টি মামলা দায়ের করেছে। সড়কের ধার ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত হাট-বাজার, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই, অনুমোদনহীন যানবাহনের আধিক্য, অদক্ষ চালক ও লাইসেন্সহীনতার কারণেই মূলত এসব ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।

তথ্যমতে, রাজশাহীতে মোট ৮৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ২৮৮ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে। এই বিস্তৃত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপরীতে যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও রূপ নেয়নি আধুনিক নিরাপদ ব্যবস্থাপনা।

রাজশাহী জেলা ও মহানগর পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত এক বছরে জেলায় ১৩৫টি এবং মহানগরে ৩৪টি দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৫০ শতাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক, আর অন্তত ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ট্রাক ও ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায়। এর বাইরে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইকের অবাধ চলাচল পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে।

সড়কের চরম ঝুঁকির কারণে নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষুব্ধ জনতা ও স্বজনহারাদের আর্তনাদে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। গত ৫ মে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়ার বিড়ালদহ এলাকায় একটি ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এক দোকানি নিহত হলে বিক্ষুব্ধ জনতা দুটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখে। এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি একই মহাসড়কের ঝলমলিয়া বাজারে বেপরোয়া একটি বালুবাহী ট্রাক ঢুকে পড়ে চার পথচারীর প্রাণ কেড়ে নেয়। তার কিছুদিন পর ২৬ জানুয়ারি বেলপুকুরে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে আরও তিনজন নিহত হন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আলামিন সরকার টিটু মহাসড়কের অব্যবস্থাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ইজিবাইক ও অটোরিকশার জন্য পৃথক লেন না থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। সেই সাথে সড়কের দুই পাশ দখল করে হাট-বাজার গড়ে ওঠা, অনভিজ্ঞ হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো ও অতিরিক্ত মালামাল বহন করাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ রাজশাহী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমানুল্লাহ বিন আখতার আবিদ এক লেনের সড়ক ও চালকদের অসাবধানতাকে দায়ী করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়াতে পারলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লাইসেন্সহীন চালকদের অসচেতনতা ও আইন অমান্যের প্রবণতাই দুর্ঘটনার মূল উৎস। সাধারণ নাগরিক ও চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা তৈরিতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মশালা চালুর পাশাপাশি তদারকি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।