ঢাকা | অগাস্ট ১৭, ২০২৬ - ১০:৪২ অপরাহ্ন

পুঠিয়ার ঐতিহাসিক শিবমন্দিরে গঙ্গাজল অর্পণ

  • আপডেট: Monday, August 17, 2026 - 10:21 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি: ‘জয় বাবা ভোলানাথ, জয় বাবা পুঠিয়নাথ’ এই ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজশাহীর পুঠিয়ার ঐতিহাসিক শিবমন্দির প্রাঙ্গণ। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারের ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাজল অর্পণ ও নগ্ন পদযাত্রায় অংশ নিতে গতকাল ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা মন্দিরে জড়ো হন।

উপজেলা হিন্দু কল্যাণ ও সংস্কার সমিতির আয়োজনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শিবলিঙ্গে পবিত্র গঙ্গাজল অর্পণ করা হয়। এ সময় ‘বোম বোম’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা। আয়োজকেরা জানান, গঙ্গাজল অর্পণকারী পুরুষ ভক্তরা গেরুয়া ধুতি ও গেঞ্জি পরে দুই পাশে বড় ছিকাসহ বাঁকা ভারে করে গঙ্গাজল নিয়ে মন্দিরে আসেন। এরপর মন্দিরের চারপাশে সাত পাক ঘুরে শিবলিঙ্গের মাথায় গঙ্গাজল অর্পণ করেন তাঁরা।

পুঠিয়া উপজেলা হিন্দু কল্যাণ ও সংস্কার সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, ভোর থেকেই স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের পদচারণে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। ভক্তদের নিরাপত্তায় পুলিশ-প্রশাসনের পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন। আয়োজকেরা আরও জানান, রোববার রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী বাজারে ক্ষ্যাপা বাবার আশ্রমে অবস্থান নেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক ভক্ত।

সেখানে রাতভর নাম-কীর্তন শেষে সোমবার ভোরে বড়াল নদী থেকে ঘটভর্তি জল নিয়ে তাঁরা পুঠিয়ার শিবমন্দিরে এসে গঙ্গাজল অর্পণ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৮৯ সালে বাঘা উপজেলার আড়ানীর পাগলা বাবা পুঠিয়ার শিবমন্দিরে নগ্ন পদযাত্রা ও গঙ্গাজল অর্পণের রীতি চালু করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার এ আয়োজন হয়ে আসছে।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও শিবমন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নগ্ন পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।’

এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় পুঠিয়া উপজেলা হিন্দু কল্যাণ ও সংস্কার সমিতির সভাপতি গুরু প্রসাদ দাস সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, পুঠিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র আসাদুল হক আসাদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হায়াত মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মৃণাল কুমার গোস্বামী, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক অধ্যাপক আতিকুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতারা।

পুঠিয়ার ঐতিহাসিক শিবমন্দিরটি মহারানী ভুবনমোহিনী দেবীর উদ্যোগে ১২৩০ থেকে ১২৩৭ বঙ্গাব্দের মধ্যে নির্মিত বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। দৃষ্টিনন্দন এই মন্দিরটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।