ঢাকা | অগাস্ট ১৬, ২০২৬ - ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

ভরা পদ্মায় নৌভ্রমণে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি

  • আপডেট: Saturday, August 15, 2026 - 10:56 pm

লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই সেলফি উন্মাদনা:

স্টাফ রিপোর্টার: বর্ষার ভরা যৌবনে পদ্মার উত্তাল ঢেউ ও প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিনই রাজশাহীর পদ্মাপাড়ে ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী। তবে চোখ জুড়ানো এই রূপের অন্তরালেই ডানা মেলছে এক ভয়াবহ জীবনঝুঁকি।

নৌযানে ভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট না পরা, চলন্ত নৌকার কিনারায় বসে বা দাঁড়িয়ে বিপজ্জনকভাবে ছবি ও ভিডিও ধারনের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রতিদিন বিকেল হতেই মহানগরীর টি-বাঁধ, আই-বাঁধ, নবগঙ্গা, পদ্মা গার্ডেন ও তালাইমারী ফুলতলা ঘাটে ছোট ডিঙি ও কাঠের ট্রলারে উঠে নদীতে ভেসে পড়ছেন দর্শনার্থীরা। তবে সরেজমিনে ঘাটগুলোতে নিরাপত্তার চরম ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। নৌ পুলিশের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ যাত্রীর শরীরে থাকছে না লাইফ জ্যাকেট।

অনেকে লাইফ জ্যাকেট হাতে রাখলেও তা পরছেন না, কেউবা অলঙ্কার হিসেবে নৌকার এক পাশে ফেলে রাখছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য রিলস ও ছবি তোলার তীব্র প্রবণতার কারণে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

টি-বাঁধ এলাকার মাঝি রিয়াদ জানান, নৌকায় ওঠার সময় বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও যাত্রীরা তা কানে তোলেন না। নিষেধ করলে উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আরেক অভিজ্ঞ মাঝি রহমত আলী সতর্ক করে বলেন, ওপর থেকে নদীকে শান্ত মনে হলেও বর্ষায় তলদেশে থাকে প্রবল অদৃশ্য স্রোত। সামান্য অসাবধানতায় নৌকা উল্টে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

নৌভ্রমণে আসা সাকিবুল ইসলাম নামে এক তরুণ নিজের অসাবধানতা স্বীকার করে বলেন, নদীতে নামার পর উত্তাল পানি দেখলে বোঝা যায় ঝুঁকি কতটা মারাত্মক। এখন মনে হচ্ছে আনন্দের চেয়ে নিজের জীবন বাঁচানোই মূল বিষয়। তাহসিনা নামের অপর এক দর্শনার্থী জানান, অনেকে মানা করা সত্ত্বেও চলন্ত নৌকায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, যা অন্যদের জন্যও আতঙ্ক তৈরি করে।

অতীতের নানা প্রাণহানির স্মৃতির কথা তুলে ধরে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ভ্রমণ আনন্দদায়ক রাখতে নৌকার ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধ এবং লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

নৌভ্রমণের ঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়টি স্বীকার করে রাজশাহী অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতা সৃষ্টির কাজ চলছে। যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট না পরা পর্যন্ত কোনো নৌকা যেন ঘাট থেকে ছেড়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি দূর্ঘটনা এড়াতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নৌকার মাঝি ও ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তার জন্য বিনামূল্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস