ঢাকা | জুলাই ২৬, ২০২৬ - ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণে বিশেষ জোর ভূমিমন্ত্রীর

  • আপডেট: Saturday, July 25, 2026 - 10:33 pm

স্টাফ রিপোর্টার: পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, বাংলাদেশকে রক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বৃক্ষরোপণ। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

শনিবার সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ‘নজরুল ভিলেজে’ ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমিত সম্পদের মধ্যেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে গিয়েছিলেন। মক্কা শরীফের আরাফাত ময়দানে তাঁর রোপণ করা নিমগাছগুলো আজও ‘জিয়া ট্রি’ বা ‘জিয়া গাছ’ নামে বিশ্ব মুসলিমের কাছে সমাদৃত। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় রাজশাহী আজ তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজশাহী মহানগরীর সবুজায়নের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাজশাহী আজ বিশ্বের দরবারে ‘বেস্ট গ্রিন সিটি’ এবং বাংলাদেশের ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে পরিচিত। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ধরে রাখতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর নগরী নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার ওপর জোর দিতে হবে। গাছের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, মানুষ ও গাছ একে অপরের পরিপূরক। মানুষ যে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে, গাছ তা গ্রহণ করে আমাদের অক্সিজেন প্রদান করে। তাই শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, গাছগুলোকে সন্তানের মতো লালন-পালন করে বড় করে তোলা আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের রেডিও ট্রান্সমিশন টাওয়ার সংলগ্ন বিশাল ফাঁকা জায়গায় বৃক্ষ চাষ ও ফুলের বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইদহের মতো রাজশাহীতেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল চাষ এবং তা বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজশাহী বিমানবন্দরকে সম্প্রসারণ করে কার্গো বিমানের মাধ্যমে দুবাই ও সিঙ্গাপুরে ফল ও সবজি রপ্তানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা চলছে বলে তিনি অবহিত করেন। এ ছাড়াও নগরীর টিএনটি এবং শিমলা বাঁধ সংলগ্ন খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিত বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং বগুড়া সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃতদের ক্রেস্ট এবং বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদান রাখায় ৪০ জন ব্যক্তির হাতে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী। এর আগে সকালে নগরীর কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নজরুল ভিলেজে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ১৫ দিনব্যাপী এই বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় মোট ৫২টি স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হচ্ছে।