ঢাকা | জুলাই ২৩, ২০২৬ - ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রামেক হাসপাতালের কার্ডিয়াক ল্যাবে ৭টি আধুনিক মেশিনে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়

  • আপডেট: Wednesday, July 22, 2026 - 10:25 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে এক বড় পরিবর্তন এসেছে। হাসপাতালের প্যাথলজি ও কার্ডিয়াক ল্যাবে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বিশ্বমানের ৭টি অত্যাধুনিক চিকিৎসাযন্ত্র। এসব ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে এখন আগের চেয়ে অনেক কম সময়ে ও নির্ভুলভাবে বিভিন্ন জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এতে একদিকে যেমন রোগ নির্ণয় দ্রুত হবে, অন্যদিকে চিকিৎসাও শুরু করা যাবে দ্রুততম সময়ে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের সেবার কথা বিবেচনা করে হেলথ কেয়ার, এবিসি কর্পোরেশন ও ভিক্টর ট্রেডিং নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে এসব মেশিন দিয়েছে। মেশিনগুলোর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক সেল কাউন্টার, হরমোন মেশিন, ইউরিন অ্যানালাইজার, আনইন্সটল সেল কাউন্টার, ইএসআর আইএসইডি, ইএসআর অ্যার্ডোজ ইনফ্লেম ও ইলেকট্রোলাইট অ্যানালাইজার। এর মধ্যে চারটি মেশিন ইউরোপে এবং অন্যগুলো ভারত ও চীনে তৈরি।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও পেইন ক্লিনিকের ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, নতুন মেশিনগুলোর কয়েকটি ইতোমধ্যে আউটডোর প্যাথলজিতে ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ ডা. সাবেরা সুলতানা জানিয়েছেন, এসব মেশিনের রিপোর্টের মান ভালো এবং নির্ভুল রিপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো অনেক বেশি কার্যকর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কার্ডিয়াক ল্যাবে এত দিন যে পয়েন্ট অব কেয়ার টেস্টিং (পিওসিটি) অ্যানালাইজার ব্যবহার করা হতো, তাতে প্রতিটি পরীক্ষা আলাদাভাবে করতে হতো। ফলে পরীক্ষার ফল পেতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগত। নতুন ম্যাগলুমি এক্স-থ্রি যন্ত্র স্থাপনের ফলে এ সমস্যা অনেকটাই কমবে। নতুন ম্যাগলুমি এক্স-থ্রি যন্ত্রটি অত্যাধুনিক কেমিলুমিনেসেন্স ইমিউনোঅ্যাসে প্রযুক্তিনির্ভর। এ প্রযুক্তিতে উচ্চ সংবেদনশীলতা ও সুনির্দিষ্টতার সঙ্গে নির্ভুল পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়। যন্ত্রটি প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২০০টি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম। একই সঙ্গে পরীক্ষার ব্যয়ও তুলনামূলক কম। যন্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য হাসপাতালেও এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে রামেক হাসপাতালের আউটডোর ল্যাবে আগে ব্যবহৃত ইলেকট্রোলাইট অ্যানালাইজারটি ছিল থ্রি-পার্ট অ্যানালাইজার। এতে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্লোরাইড পরীক্ষা করা যেত। নতুন ফাইভ-পার্ট ইলেকট্রোলাইট অ্যানালাইজারে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড, পিএইচ ও বাইকার্বোনেট এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পরীক্ষা করা সম্ভব। ফলে রোগ নির্ণয় আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যন্ত্রটির প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হলেও এটি ভারতে সংযোজিত। নতুন ইএসআর অ্যানালাইজারটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ওয়েস্টারগ্রেন পদ্ধতি অনুসরণ করে। এ পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী ইএসআর পরীক্ষার নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত। ফলে আগের তুলনায় আরও নির্ভুল ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে।

রামেক হাসপাতালে এসব মেশিন পেতে সহযোগিতা করেছেন রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান। তিনি হেলথ কেয়ার, এবিসি কর্পোরেশন ও ভিক্টর ট্রেডিং কর্তৃপক্ষকে রোগীদের সেবার কথা বিবেচনা করে বিনামূল্যে মেশিন দেওয়ার অনুরোধ করেন। তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো হাসপাতালকে এসব মেশিন দেয়। মিজানুর রহমান মিজান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে নতুন যন্ত্রপাতি আসেনি। প্যাথলজি বিভাগের অনেক মেশিন পুরনো হয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় এবং রিপোর্ট না পাওয়ায় চিকিৎসা শুরু করতেও দেরি হয়। রোগীদের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনামূল্যে মেশিন দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো সেই অনুরোধ রেখেছে। নতুন মেশিনে দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং পরীক্ষার খরচও আগের তুলনায় কমবে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, পুরনো মেশিনের তুলনায় নতুন মেশিনগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ অনেক কম। একই সঙ্গে বিভিন্ন নমুনায় বেশি প্যারামিটার পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। এতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মানও উন্নত হবে। পুরনো মেশিনগুলোতে মাঝেমধ্যে সমস্যা দেখা দিলে টেকনিশিয়ান এনে মেরামত করতে সময় লাগে। এ সময় রোগীদের অপেক্ষা করতে হয়। নতুন মেশিন চালু হওয়ায় এ ধরনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। তবে পুরনো মেশিনগুলো একেবারে বন্ধ করা হবে না; নতুন মেশিনের পাশাপাশি পুরনো মেশিনেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা আরও বেগবান করতে সহায়তা করায় রাজনীতিবিদ মিজানুর রহমান মিজানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।