৮ ঘণ্টা পর রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার
ঢাকা-রাজশাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক:
স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট পরিদর্শকের (টিটিই) বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের চালানো টানা ৮ ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, রেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক সফল বৈঠকের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ঢাকা-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। তবে আকস্মিক এই সময়ের হেরফের ও বিশৃঙ্খলার কারণে ঢাকাগামী জনপ্রিয় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের মঙ্গলবারের যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক জিয়াউল আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকে পড়া ও বিলম্বিত ট্রেনগুলো একে একে গন্তব্যে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে সকল ট্রেনের নিয়মিত সময়সূচি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার, যখন রাবি আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিন অভিযোগ করেন যে ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে সরকারি রসিদ ছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার বিচার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে রাবি সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ করে ফেলেন। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন রেললাইনে অবরোধ সৃষ্টির ফলে দিনব্যাপী রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে রাবি প্রক্টর ও উপ-উপাচার্য, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে রাতের ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’, ‘তিতুমীর এক্সপ্রেস’ ও ‘সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের রাবি স্টেশনে অফিশিয়াল স্টপেজ দেয়া হবে। পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রাজশাহী স্টেশন পর্যন্ত নিয়মিত শাটল বাস সেবা চালু করা হবে। এছাড়া আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা খরচ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সমন্বয়ে সম্পূর্ণ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বহন করবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত জুনিয়র টিটিই সুমন আলীকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সাথে তার কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম অঞ্চল) সদর দপ্তর থেকে ৩ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার অবরোধের ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস’সহ একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ায় হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী তীব্র গরম ও গুমোট পরিবেশে ভোগান্তির শিকার হন। ট্রেনের যাত্রী ফারজানা আক্তার জানান, সময়মতো ট্রেনে উঠলেও মাঝপথে আটকে গিয়ে পরিবার ও ভারী লাগেজ নিয়ে বিকল্প বাসে ওঠার সুযোগ ছিল না।
একই ভোগান্তির কথা জানিয়ে আব্দুল হান্নান ও রফিকুল ইসলাম নামে অপর দুই যাত্রী বলেন, ট্রেনের বগিতে এসি বা ফ্যান চললেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা এবং পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আন্দোলন চলাকালীন সাধারণ যাত্রীদের এই সাময়িক যাতায়াত ব্যাঘাত ও ভোগান্তির জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে।











