ঢাকা | জুলাই ১১, ২০২৬ - ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুর করলার কম দামে হাটেই ফেলে দিচ্ছেন কৃষক

  • আপডেট: Friday, July 10, 2026 - 10:39 pm

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: মাঠভরা করলা, কিন্তু বাজারে নেই ন্যায্য দাম। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীর দুর্গাপুরে করলা ও সবজি চাষিরা চরম লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।  উৎপাদন খরচের তুলনায় মাত্র আড়াই থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে করলা বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় কেউ ফলন্ত গাছ কেটে ফেলছেন, আবার কেউ বিক্রি না হওয়া করলা হাটবাজার ও রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে করলা চাষে প্রায় ২৫  থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে সেই বিনিয়োগের এক-চতুর্থাংশ টাকাও ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম  বলেন, বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা খরচ করে করলা লাগিয়েছিলাম। এখন বাজারে একশ, দেড়শ বা দুইশ টাকা মণ দাম দিচ্ছে। লোকসান গুণতে গুণতে আমাদের আর কোনো পুঁজি অবশিষ্ট নেই।

শুক্রবার উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাটে বিপুল পরিমাণ করলাসহ সবজির আমদানি। কিন্তু পাইকাররা ব্যবসায়ীরা দাম বলছে না। ফলে একেবারে কেনাবেচা নেই। দাম না বলায় হাটের মধ্যে প্রায় ৩ মণ করলা পা দিয়ে নষ্ট করছেন চাষি আশরাফুল।

এ সময় তিনি বলেন, দেড় বিঘার মতো জমিতে চাষ, নিড়ানি, সেচ আর সার-মাটি দিতে ৩৫-৩৬ হাজার টাকা চলে গেছে। কিন্তু ৩৫টা পয়সাও ঘরে উঠাতে পারিনি। বাড়ি থেকে এনে যে খরচটা করেছি, সেটা একদম ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ হয়ে গেছে। বাজারে এসে ১২০ টাকা মণ দর বলছে পাইকাররা। তাই নিজের রাগ ও ক্ষোভে নিজের সবজি নিজেই নষ্ট করে ফেলছি।

এদিকে বাজারের এই চরম মন্দাভাব সইতে না পেরে অনেক কৃষক মাঠের ফলন্ত গাছ কেটে ফেলছেন। কানপাড়া বাজারের কৃষক মোকলেছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক কেজি টিএসপি  সার কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা দিয়ে। আর এক মণ করলা বিক্রি করতে হচ্ছে দেড়শ টাকায় (৩-৪ টাকা কেজি)। ফলে সারের দাম উঠছে না। রাগে সবজি ধরা তাজা গাছ কেটে দিয়েছি। আর সার-ওষুধও দেব না, গাছও রাখবো না। চাষির দিকে তাকানোর কেউ নেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার দুর্গাপুর উপজেলা সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এ মৌসুমে উপজেলায় ১৭৮ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছিল। প্রথম দিকে কৃষকেরা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে করলা বিক্রি করে ভালো লাভ পেয়েছেন। তবে এখন দাম কিছুটা কমে গেছে।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহারা পারভীন লাবনী তিনি কৃষকদের উৎপাদিত সবজিসহ করলা ও গাছ কেটে ফেলে না দিয়ে নিয়মিত পরিচর্যার পরামর্শ দেন।  তিনি বলেন, সবজির বাজার ওঠানামা করে। কৃষকরা যাতে সঠিক মূল্য পান, সেজন্য আমরা কৃষি বিপণন বিভাগসহ উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করা যায়, দ্রুতই কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন।