ঢাকা | জুন ১২, ২০২৬ - ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

তানোরে চা বিক্রেতার মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি অধরাই থাকবে?

  • আপডেট: Thursday, June 11, 2026 - 9:40 pm

অর্থাভাবের বেড়াজালে অদম্য মাহমুদা:

সাইদ সাজু, তানোর থেকে: রাজশাহীর তানোরে অর্থাভাবের কাছে হার মানতে বসেছে এক অদম্য মেধাবীর স্বপ্ন। চা বিক্রেতা বাবার অভাবের সংসারে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও জামালপুর মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন মাহমুদা খাতুন। কিন্তু কঙ্কাল ( স্কেলেটন), প্রয়োজনীয় বইপত্র কেনা এবং হোস্টেলের খরচ মেটানোর মতো ন্যূনতম সামর্থ্য নেই এই অসচ্ছল পরিবারের।

ফলে ভর্তির আনন্দ ছাপিয়ে এখন পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন মাহমুদা ও তার পরিবার। মেধাবী মাহমুদা খাতুন তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও গৃহিণী সায়েরা বিবির বড় মেয়ে। তার ছোট বোন মিম খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। মাহমুদা ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে এবং ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

মাহমুদার বাবা মাসুদ রানা বলেন, মেয়ে ছোট থেকেই পড়ালেখায় খুব আগ্রহী। আমরা নিজেরা পড়ালেখা জানি না। মেয়ের আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়িয়েছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহ কবুল করেছেন। গ্রামের ছোট দোকানে চা বিক্রি করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়, যা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়।

মেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সময় যে ১৩ হাজার টাকা লেগেছে, তাও ধার করতে হয়েছে। এখন ক্লাস শুরু হয়েছে; বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার টাকা আর মেডিকেল পড়াশোনার জন্য একটি কঙ্কাল (স্কেলেটন) কেনা বাধ্যতামূলক, যার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। এছাড়া প্রতি মাসে হোস্টেলের খরচ ও খাতা-কলম বাবদ আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। (সহায়তার জন্য মাহমুদার বাবার মোবাইল নম্বর: ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯)।

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি অশ্রুভেজা কণ্ঠে বলেন, আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই যা বিক্রি করে মেয়ের পড়ার খরচ জোগাব। গ্রামে মাত্র দুই শতক জমির ওপর মাটি ও বেড়ার তৈরি ঘরে আমাদের বাস। মেয়েটি ছোট থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আর আল্লাহর কাছে কাঁদে, যেন বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরিব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা করতে পারে। ব

র্তমান সরকার ও দেশের বিত্তবানদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা আমার মেয়ের পাশে দাঁড়ান। মুঠোফোনে মাহমুদা খাতুন জানান, ১ম বর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে তিনি জামালপুর মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে উঠেছেন। নিজের বই ও কঙ্কাল না থাকায় পড়ালেখায় বেশ কষ্ট হচ্ছে। টাকার অভাবে পড়ালেখা শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

মুণ্ডুমালা পৌরসভায় কর্মরত মাহমুদার প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই চরম অভাবের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। অনেক সময় অন্যের বই ধার করে পড়েছে। তার বাবা চা বিক্রির পাশাপাশি মাঝে মাঝে দিনমজুরের কাজও করেন। এই অদম্য মেয়ের পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, মাহমুদার মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এমন পরিবার থেকে মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো তানোর উপজেলার জন্য গর্বের। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে শুধু সরকারি সহায়তা নয়, এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে দেশের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।