ঢাকা | জুন ৯, ২০২৬ - ১:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ, পুলিশ কমিশনারকে স্মারকলিপি

  • আপডেট: Monday, June 8, 2026 - 11:19 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরএমপি কমিশনারের কাছে আট দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছে ‘রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি’।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের কাছে এই স্মারকলিপি তুলে দেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঐতিহ্যগতভাবে শান্ত এই শিক্ষা নগরীতে দিন দিন অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। পুলিশের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও নতুন অপরাধচক্রের উত্থানে নগরবাসী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে সিএনবি মোড়, শিরইল, নওদাপাড়া, রেলস্টেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের উৎপাত বেড়েছে, যেখানে নারী ও শিক্ষার্থীরা প্রধান টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন।

এছাড়া পুলিশের ডেটাবেজে পাঁচ শতাধিক কিশোর অপরাধীর তালিকা থাকার পরও রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সহজলভ্য মাদকের বিস্তার, চুরি-ডাকাতি, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরি এবং সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্মারকলিপিতে সুনির্দিষ্ট আটটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে-পাড়া-মহল্লায় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার করা, তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং ও তাদের আশ্রয়দাতাদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালানো, একটি গোপনীয় ‘বিশেষ নিরাপত্তা হটলাইন’ চালু করা, অকেজো সিসিটিভি ক্যামেরা মেরামত করে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের আওতায় আনা এবং সন্ধ্যার পর নারী ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় নারী পুলিশের বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা। এছাড়া সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আদালতের প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে সমন্বয় এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যবস্থাটি দ্রুত চালুর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, পুলিশ প্রতিনিয়ত মাঠে কাজ করছে এবং প্রতিদিন মাদক কারবারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া খুন, ধর্ষণসহ প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় আসামিদের আটক করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, বেলাল আহমেদ, শফিকুর রহমান, জালাল উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য সচিব সাদেকুল ইসলাম, শাহ মখদুম থানার আহ্বায়ক আতাউর রহমান, বোয়ালিয়া থানার সদস্য সচিব তৌহিদুল হক তোতা, শরিফুল ইসলাম, লিয়াকত খান এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী হায়দারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।