ঢাকা | মে ২০, ২০২৬ - ২:১০ পূর্বাহ্ন

পদ্মার চরে ‘ডাকাতের’ গুলিতে আহত ২, নিখোঁজ ১

  • আপডেট: Wednesday, May 20, 2026 - 12:10 am

বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলায় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার চর থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বাঘা ও কুষ্টিয়ার সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন-কালিদাসখালী এলাকার সিদ্দিক বেপারীর ছেলে স্বপন বেপারী (৪০) এবং নিচ পলাশী এলাকার শুকুর আলীর ছেলে জিয়াউল হক (৩৫)। এদের মধ্যে আহত জিয়াউল হককে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ স্বপন বেপারীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গভীর রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল ট্রলারযোগে বাঘার পদ্মার চর এলাকায় আসে। তারা কালিদাসখালী চরে প্রবেশ করলে স্বপন বেপারী টর্চলাইটের আলো ফেলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। স্বপনের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী জিয়াউল হক এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও গুলি করে।

নিখোঁজ স্বপনের পরিবারের দাবি, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বপনকে দুর্বৃত্তরা ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে রক্তের আলামত পাওয়া গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারী বলেন, রাতের অন্ধকারে দুটি ট্রলারে করে ১৫-১৬ জন অস্ত্রধারী আসে। তারা চরে নেমেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে আমার ছেলে স্বপনকে গুলি করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এ এলাকায় প্রায়ই সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের তৎপরতা দেখা যায়। এই সর্বশেষ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চরাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য এর একটি স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত জরুরি।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, চরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যার মধ্যে একজন নিখোঁজ। নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য নৌ-পুলিশকেও এই অভিযানে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাঘা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। স্বপনের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করছেন বলে জানান ওসি। তিনি আরও বলেন, এই অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলামিন ইসলাম রাব্বি বলেন, আমাদের হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ বা আহত কোনো ব্যক্তিকে আনা হয়নি। তবে লোকমুখে শুনেছি, আহতদের পার্শ্ববর্তী লালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।