ঢাকা | মে ১৩, ২০২৬ - ৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

দিশেহারা হাজারো কৃষক: পুঠিয়ায় শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ

  • আপডেট: Saturday, May 9, 2026 - 10:12 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টির আঘাতে বোরো ধান ও পাটসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে তীব্র শিলাবৃষ্টি বয়ে যায়। এতে মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের চোখে-মুখে এখন কেবলই অন্ধকারের ছাপ।

সরেজমিনে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বাসুপাড়া ও কার্তিকপাড়া সংলগ্ন বিলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা-পাকা বোরো ধান জমিতে নুইয়ে পড়েছে, অনেক স্থানে ধানের শীষ ভেঙে ঝরে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাটের আবাদ। শিলার আঘাতে কচি পাট গাছের ডগা ভেঙে যাওয়ায় পুনরায় ফলন আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এছাড়া তিল, কলা, ভুট্টা, পেঁয়াজ কদম, আম ও লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি সামিউল ইসলাম লালন জানান, বৃষ্টির সাথে তীব্র শিলা বর্ষণে তার পাটক্ষেতের অধিকাংশ গাছের মাথা ভেঙে গেছে। নতুন করে এই জমিতে অন্য কোনো ফসল রোপণের সুযোগও এখন নেই।

আরেক চাষি সাধন কুমার আক্ষেপ করে বলেন, ধারদেনা করে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে পাটের আবাদ করেছিলাম। এই ফসলের ওপরই ছিল সংসার ও সন্তানদের পড়ালেখার ভরসা। এখন সব শেষ হয়ে গেল। ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়া চাষি আইয়ুব আলী জানান, ধান বিক্রি করে কিস্তি শোধ করার পরিকল্পনা ছিল তার, কিন্তু প্রকৃতির এই তাণ্ডবে তিনি এখন সর্বস্বান্ত। গৃহবধূ রোজি বেগম জানান, নিজের গয়না বন্ধক রেখে পাটের আবাদ করেছিলেন, এখন সেই গয়না ছাড়ানো তো দূরের কথা—কী খেয়ে বাঁচবেন তা নিয়েই চিন্তিত।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, শিলমাড়িয়ার কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পাটের চারাগুলো ছোট থাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন। দ্রুত তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।