ঢাকা | মে ৮, ২০২৬ - ১০:৪২ অপরাহ্ন

বাগমারায় মিটার চোর চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার: উদ্ধার ১৪ মিটার

  • আপডেট: Friday, May 8, 2026 - 10:28 pm

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আতঙ্ক সৃষ্টিকারী আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূল হোতা রাশিদ হাসানকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রাশিদ সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা উপজেলার চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের ইউসুব আলীর ছেলে।

গ্রেফতারের পর রাতেই বাগমারা থানার পুলিশ তাকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া ১৪টি বৈদ্যুতিক মিটার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশিদ ওই অঞ্চলে মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির মূল হোতা হিসেবে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাগমারার গোবিন্দপাড়া, আউচপাড়া, বাসুপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, গনিপুর ও মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৭৫টি গভীর নলকূপের মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি হয়। চুরির পর চোরেরা কৌশলে সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর লিখে ঘটনাস্থলে রেখে আসত।

প্রতিটি মিটারের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ট্রান্সফরমারের জন্য ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করত এই চক্রটি। অনেক ভুক্তভোগী নিরুপায় হয়ে দাবিকৃত টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। টাকা পাওয়ার পর চোরচক্রের নির্দেশনা অনুযায়ী খড়ের গাদা বা ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে কেউ কেউ তাদের মিটার খুঁজে পান। চলমান বোরো মৌসুমে সেচ যন্ত্রের এমন আকস্মিক চুরিতে চরম বিপাকে পড়েন সাধারণ কৃষকরা।

ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ আসার পর তদন্তে নামে বাগমারা থানা পুলিশ। চোরদের রেখে যাওয়া মোবাইল নম্বরগুলো প্রযুক্তিগত সহায়তায় ট্র্যাক করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর সলঙ্গা থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশিদকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশিদ হাসান বাগমারা থেকে ৭৫টি মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪টি মিটার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সরঞ্জাম উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরও জানান, এই বিশাল চুরির ঘটনার পেছনে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কোনো অসাধু কর্মকর্তা বা কর্মচারীর যোগসাজশ আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাশিদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।