ঢাকা | এপ্রিল ৩০, ২০২৬ - ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

পুলিশ পরিদর্শক স্বামীর বিরুদ্ধে সার্জেন্ট স্ত্রীর অভিযোগ

  • আপডেট: Wednesday, April 29, 2026 - 9:43 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরেই এক নারী সার্জেন্ট তার স্বামী, যিনি নিজেও একজন পুলিশ কর্মকর্তা, তার বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতন, প্রতারণা এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী নারী সার্জেন্ট মোসা. সাবিহা আক্তার বর্তমানে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। তিনি তার স্বামী পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়া সাবিহা আক্তারের সঙ্গে ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি মাহবুব আলমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সাবিহা অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় মাহবুব তার আগের বৈবাহিক অবস্থা এবং একটি পালিত কন্যা থাকার বিষয়টি গোপন করেছিলেন। বিয়ের পর সাবিহা জানতে পারেন যে, মাহবুবের আগের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে দেয়া তথ্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক। সাবিহার দাবি, মাহবুব অসংখ্য নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। প্রতিবাদ করলে সাবিহার ওপর চলতো অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

সাবিহা জানান, মাহবুবের ল্যাপটপ থেকে তিনি এসব চারিত্রিক স্খলনের অসংখ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। অভিযোগের সবচেয়ে লোমহর্ষক অংশটি হলো জোরপূর্বক গর্ভপাত। সাবিহা উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে মাহবুব ও তার পালিত কন্যার চাপে তাকে সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করা হয়। রাজি না হওয়ায় অমানুসিক নির্যাতনের একপর্যায়ে ২০২০ সালের ৩০ জুলাই রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে তার ৪ মাসের ভ্রুণ হত্যা করা হয়।

মাহবুব নওগাঁয় কর্মরত থাকাকালীন এক টিকটকারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে সাবিহা জানান। গত ১৩ এপ্রিল তাদের আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সাবিহার দাবি, মাহবুব তার অনুমতি ছাড়াই পুনরায় বিয়ে করেছেন অথবা অবৈধভাবে মেলামেশা করছেন। কেবল শারীরিক নয়, সাবিহা বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণারও শিকার হয়েছেন। পারিবারিক সমস্যার কথা বলে মাহবুব বিভিন্ন দফায় সাবিহার ব্যাংকের এফডিআর এবং ব্যাংকের লোন মিলিয়ে মোট ২০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। বর্তমানে তাদের ১৯ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান আছে, যার প্রতি মাহবুব কোনো দায়িত্ব পালন করেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত মাহবুব আলম বর্তমানে রাজশাহী থেকে সিরাজগঞ্জে বদলির অপেক্ষায় আছেন। বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে আমি মিডিয়ায় কথা বলতে চাই না।