ঢাকা | জুলাই ৪, ২০২৬ - ১:১০ পূর্বাহ্ন

রাবিতে হল দখলের অভিযোগে মুখোমুখি ছাত্রদল ও শিবির

  • আপডেট: Thursday, July 2, 2026 - 10:38 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। হল দখল ও রাজনৈতিক প্রভাবে আবাসিকতা নিশ্চিত করার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার অভিযোগে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিপরীতে ১৭টি আবাসিক হলে আসন রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। অর্থাৎ প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনই আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

এক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, মেধাবী, অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ১০ শতাংশ হল প্রাধ্যক্ষদের বিশেষ কোটায় সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু এই বিশেষ কোটার ব্যবহার নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

গত ১ মার্চ ছাত্রদল নেতা আমির হামজা এবং ৫ এপ্রিল আসিফ উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থীকে সৈয়দ আমীর আলী হলে বিশেষ কোটায় আবাসিকতা দেয়া হয়। তারা দুজনই রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে বৈধ আবাসিকতা ছাড়াই তিন শিক্ষার্থীর অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তারাও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্রলীগ হল ছাড়ার পর তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্লকগুলোতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের নামে বরাদ্দ পাওয়া কক্ষগুলোতেও শিবির-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের রাখা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’-এর মুখপাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে স্বপ্ন দেখছিলাম শিক্ষার্থীদের মাঝে বৈধভাবে সিট বণ্টন হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় হলের অ্যালটমেন্ট আটকে রেখে দলীয় শিক্ষার্থীদের সিট দেয়া হচ্ছে। কিছু হলে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কক্ষ গড়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলো পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে এই কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের সময়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে আবাসিক সিট বণ্টনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। বর্তমানেও আমরা সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। তবে হল দখলের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদল মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবির। শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, এমন একটি ঘটনাও দেখানো যাবে না, যেখানে ছাত্রশিবিরের সুপারিশে কোনো শিক্ষার্থী হলে আবাসিকতা পেয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করছেন, তাঁরা যেন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে হল দখলের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ব্যতিরেকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শিবির, রাকসু এবং হল সংসদের কারা নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থান করছেন, শীঘ্রই আমরা সেসব তথ্য তুলে ধরব।

হলে সুষ্ঠুভাবে সিট বণ্টনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, হলের প্রাধ্যক্ষরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুসারেই সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। তবে যেসব শিক্ষার্থী নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও হল প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস