ঢাকা | এপ্রিল ১৪, ২০২৬ - ২:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

তানোরে অপারেটরের খামখেয়ালিপনায় স্বপ্ন পুড়ছে কৃষকের

  • আপডেট: Monday, April 13, 2026 - 10:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সেচ অপারেটরের খামখেয়ালিপনায় হুমকির মুখে পড়েছে শত শত বিঘা বোরো খেত। কামারগাঁ ইউনিয়নের চকসাজুড়িয়া মৌজায় সময়মতো পানি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে মাঠের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের সবুজ পাতা।

পানির অভাবে ফসলহানির শঙ্কায় থাকা দিশেহারা কৃষকদের অভিযোগ- ফলন ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে অপারেটর নানা অজুহাতে সেচ বন্ধ রেখেছেন, যার ফলে কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে উপজেলাজুড়ে প্রচণ্ড তাপদাহ বিরাজ করছে। দিনে তাপপ্রবাহ থাকলেও রাতে কিছুটা শীতল হাওয়া থাকছে। সেচ দেয়ার পরও জমিতে পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। পানির অভাবে ৬ নম্বর কামারগাঁ ইউনিয়নের চকসাজুড়িয়া মৌজার জেল নং-২৩৯, দাগ নং-৬১ এলাকায় অপারেটর রনি ইসলামের অধীন সেচ ব্যবস্থায় চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

চকসাজুড়িয়া কাজিপাড়া এলাকার কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। একসময় সবুজে ভরা ধানখেত এখন পানির অভাবে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একজন বিএনপি নেতার ডিপ টিউবওয়েল থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না করায় বিঘার পর বিঘা জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে।

মাঠের পর মাঠ ধানখেত রোদে পুড়ে খাঁ খাঁ করছে। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ধানের গাছগুলো পর্যাপ্ত রস না পেয়ে হলদেটে হয়ে নুয়ে পড়েছে। অনেক কৃষকই বলছেন, আর কয়েকদিন এভাবে চললে ফলন তো দূরের কথা, গাছ বাঁচিয়ে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, সময়মতো সেচ না পাওয়ায় তারা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। কাজিপাড়া এলাকার এক কৃষক বলেন, আমরা রনির ডিপের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সঠিক সময়ে পানি না দেয়ায় আমাদের কষ্টের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বারবার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

তারা আরও জানান, গভীর নলকূপে সেচ দেয়ার জন্য বিঘাপ্রতি হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫০০ টাকা। সবাই টাকা পরিশোধ করলেও সেচ দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। সেচ কার্ডে সেচ দেয়ার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট অফিসও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

কৃষকদের ভাষ্য, আর দুই-তিনবার সেচ পেলে ফসল ঘরে উঠত। সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় এক বিঘা জমিতে চাষ থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ ধানের দাম কম। এর মধ্যে বৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হলে তা হবে চরম দুঃখজনক। প্রায় ২৫০ বিঘার এই সেচ স্কিমের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমির ধান পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে।

তবে অপারেটর রনি ইসলাম বলেন, সেচের তেমন কোনো সমস্যা নেই। প্রায় ২০০ বিঘার বেশি স্কিমে সেচ দেয়া হচ্ছে। কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কয়েকজন কৃষক ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন অভিযোগ করছেন। মাত্র ৮-১০ বিঘা জমিতে সামান্য সমস্যা হয়েছিল, সেটিও এখন নেই।

এ বিষয়ে তানোর বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, গভীর নলকূপের মূল উদ্দেশ্যই হলো জমিতে সেচ দেয়া। কোনো অপারেটর সেচ না দিলে কৃষকরা সঙ্গে সঙ্গে অফিসকে অবহিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।