ঢাকা | মার্চ ৩১, ২০২৬ - ২:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বিসিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে ৮ কারখানায় বড় ধরনের চুরি

  • আপডেট: Monday, March 30, 2026 - 10:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর সপুরায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীতে ঈদের ছুটি ও তার পরবর্তী গত কয়েক দিনে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক প্রায় ৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র।

এতে অন্তত ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা। এ ঘটনায় শিল্পনগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বিসিকের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে।

ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো- জিএম ক্যামিকেল ইন্ড্রাস্ট্রিজ, এম এম সিল্ক, শাহীন সিল্ক, আল মদিনা সিল্ক, তাসকিন অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স, মর্ডান ফুড ইন্ড্রাস্ট্রিজ, রাহী ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স ও এবিএম অটো ডোর।

সরেজমিনে ও ক্ষতিগ্রস্তদের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বিসিকের বিভিন্ন ব্লকে অবস্থিত ৮টি কারখানায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র অত্যন্ত সুকৌশলে কারখানার বাইরের এবং ভেতরের মেইন সুইচের দামী তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক মিটারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মালিকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা জানান, চুরি হওয়া তার, বৈদ্যুতিক মিটার ও অন্যান্য মালামালের বর্তমান বাজারমূল্য ৩ লাখ টাকারও বেশি। বিসিকের একটি কারখানার মালিক বলেন, ‘রাতের আঁধারে নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে চুরি হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এখন কারখানায় মালামাল রেখে বাড়িতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি না।’

এদিকে, বিসিক শিল্পনগরীর মতো একটি সংরক্ষিত এলাকায় এমন ধারাবাহিক চুরিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিসিক শিল্প মালিক সমিতি।

তারা বলছেন, সপুরার পুরাতন এই বিসিক শিল্পনগরীতে অবকাঠামোর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। রাস্তা, ড্রেন এখন পর্যন্ত অনুন্নত। শিল্পনগরীর চারদিকে প্রাচীর নেই। অনিরাপদ এই শিল্পনগরীতে উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনমুখি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মাঝে মধ্যেই বিদ্যুতের তার চুরি যায়। বিদ্যুত ও গ্যাসের সংকটতো রয়েছেই। এলাকাটির রাস্তাগুলো ভাঙাচোরা। যানবাহন চলাচলের অযোগ্য প্রায়। ড্রেনগুলোরও বেহাল দশা। ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় জমে। বারংবার বিসিককে বললেও তারা এসব বিষয়ের সমাধানে সচেষ্ট হয় না।

তারা বলেন, রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাবকে কাজে লাগিয়ে চোরচক্র এই অপকর্ম ঘটাচ্ছে। অবিলম্বে নিরাপত্তা জোরদার না করলে বড় ধরনের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে বিসিক শিল্পনগরী পুলিশ ফাঁড়িতে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফাঁড়ির ইনচার্জ সুভাষচন্দ্র বর্মন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং শিল্পনগরীর নিরাপত্তা টহল বাড়ানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস