রাজশাহীসহ সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীসহ এর উপকন্ঠের এলাকায় মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। যা সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মশক নিধনে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী রোগ জনগণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সবাই সচেতন হলে এর প্রাদুর্ভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগামী ১৪ মার্চ থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষা পেতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানাই। গতকাল বুধবার দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ ভিডিও-বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান।
রাজশাহী মহানগরীসহ এর আশপাশের এলাকার জনজীবন মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ঘরে-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি। গত ১৪ মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তথ্যমতে, একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭২০ জন। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে মশার প্রজনন বাড়ায় নগরীর অলিগলি থেকে বাসাবাড়ি সব জায়গাতেই বেড়েছে মশার উপদ্রব। এতে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আজিজুল হক আজাদ বলেন, “মশার কামড় থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতা জরুরি। তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে মশা নিধনের বিকল্প নেই। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।”
এদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, মশা নিধনে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মামুন ডলার বলেন, “ফগার মেশিনে উড়ন্ত মশা সেভাবে মারা যায় না, বরং অনেক উপকারী পতঙ্গ মারা যায়। তাই আমরা ড্রেনগুলোতে নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ করে মশার বংশবিস্তার রোধে কাজ করছি।” নগর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমে থাকতে না দেয়ার জন্য নগরবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নগরীতে মশার উপদ্রপ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নগরীর ড্রেনগুলোতে নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ করে মশার বংশবিস্তার রোধে কাজ করছে আমাদের কর্মীরা। শীঘ্রই ফগার মেশিনে উড়ন্ত মশা মারার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তার আহ্বানে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার কামড় থেকে মানুষ ডেঙ্গু কিংবা চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাই ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে আগে থেকেই সব প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
কীটতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণের জন্য ড্রেন, ডোবা, নর্দমার মতো যেসব জায়গায় পঁচা পানি জমে থাকার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এক্ষেত্রে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডোবা, বাড়ি বা বাসার ছাদে পানি জমতে দেবেন না। পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা জরুরি। প্রতিসপ্তাহে কমপক্ষে একবার বাড়ি বা বাসার ভেতর আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখুন। এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্যগণসহ সর্বস্তরের জন প্রতিনিধিগণের প্রতি আমার আহ্বান, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি সপ্তাহের শনিবার আপনারা যার যার এলাকার নিজ নিজ বসতবাড়ি এবং আশেপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করুন। কোথাও ময়লা পানি জমে থাকতে দেবেন না। তিনি বলেন, নিজের বাসা-বাড়ি এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন। এডিস কিংবা চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেকে ও অপরকে রক্ষা করুন।











