ঢাকা | মার্চ ৭, ২০২৬ - ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

তানোরে কোটি টাকার সজিনা বিক্রির প্রত্যাশা

  • আপডেট: Saturday, March 7, 2026 - 12:19 am

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে অনাদরে-অবহেলায় রাস্তার ধারে, বসত-বাড়ির আঙ্গিনায়, মাঠে-ঘাটে বেড়ে উঠা হাজার-হাজার সজিনা গাছের ডালগুলো শ্বেত-শুভ্র ফুলে ভরে গেছে। এ বছর কোটি টাকারও বেশি সাজিনা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

এবছর তানোরে সুস্বাদু সবজি হিসেবে সমাদৃত আর ওষুধি গুণের কারণে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে খ্যাত সাজিনার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

তানোর উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ২-৪টি সজিনা গাছ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বেড়ে উঠেছে অসংখ্য সজিনা গাছ। কোনো প্রকার বালাইনাশক প্রয়োগ এবং পরিচর্যা ছাড়া চাষ হয় বলে সজিনার কোন উৎপাদন খরচ নেই। বাড়ির পাশে বা জমিতে ডাল পুঁতে রাখলেই ধীরে ধীরে শিকড় গজিয়ে উপযুক্ত গাছে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে সাজিনা দেয়।

বাড়িতে তরকারীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদনকারীরা এসব সজিনা বাজারে বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করে থাকেন। মৌসুমজুড়ে এসব সজিনা ৮০ টাকা থেকে ১শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়। উপজেলার কালীগঞ্জ, গোল্লাপাড়া, চৌবাড়িয়া, মুন্ডমালা, তালন্দ ও ইলামদহিসহ বিভিন্ন হাট থেকে এসব সজিনা ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন।

মুন্ডমালা পৌর এলাকার চুনিয়া পাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম রন্জু বলেন, আমার বাড়ির সামনে বেশ কয়েকটি সজিনার গাছে এ বছর ব্যাপক ফুল ধরেছে। ফলনও ভালো হবে এমনটি আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, বাড়ির চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করা যায়। বাতাসপুর গ্রামের সুজন বলেন, আমার বাড়ির সামনে এবং গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনে এবং রাস্তার ধারের সজিনা গাছগুলোতে ফুলে ফুলে ভরে গেছে এ বছর ফলন ভালো হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার বারনাবাস হাসদাক বলেন, সজিনা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন এ এর অভাব দূরীকরণে সজিনা অত্যন্ত উপযোগী একটি খাবার। এটি প্যারালাইসিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে। সজিনার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক ও সি আছে। এটি মানবদেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সজিনা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অনেক উপকারী। তাছাড়া সজিনার একদিকে যেমন উপকারী, অন্যদিকে এ পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী আঁশজাতীয় সবজি সজিনাকে বলা হয় ‘মিরাকল ট্রি’। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল সবই খাওয়া যায়। সজিনা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি বাড়ির পাশে অনাবাদী ও পতিত জমিতে চাষ করা যায়। তাছাড়া ঠাণ্ডা-গরম, খরা সহিষ্ণু হওয়ায় এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। সজিনা গাছের তেমন কোন রোগবালাই নেই বললেই চলে।

তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার উপজেলায় কমপক্ষে ২শ’ মেট্রিক টন সজনে উৎপাদিত হবে, বাজার দর হিসেবে যার মূল্য সর্বনিম্ন এক কোটি টাকা।