ঢাকা | মার্চ ৭, ২০২৬ - ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে খাল খননের অভাবে কমে যাচ্ছে জমির উর্বরতা শক্তি

  • আপডেট: Saturday, March 7, 2026 - 12:15 am

মোজাম্মেল হক, চারঘাট থেকে: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার দীর্ঘদিন ধরে মাটি জমে ভরাট হয়ে পড়েছে খাল। উপজেলার সরদহ, নিমপাড়া, শলুয়া ও ইউসুফপুর ইউনিয়নের দীর্ঘ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়ছেন কৃষকেরা। এতে করে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বড়াল নদী সংযোগ খাল সংস্কারের অভাবে খালগুলো প্রায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঐসব খাল দিয়ে মাঠে পানি প্রবেশ করতে পারছে না। এতে মাটির উর্বরতা শক্তি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, সরদহ-বানেশ্বর সংযোগ খাল, নিমপাড়া বিলসংলগ্ন খাল এবং ইউসুফপুর এলাকার কয়েকটি শাখা খাল বছরের পর বছর মাটি জমে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে খালের গভীরতা কমে যাওয়ায় পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে।

নিমপাড়া ইউনিয়নের কৃষক হাবিল উদ্দিন বলেন, আগে খাল দিয়ে খুব সহজে পানি নামত। এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নামতে পারে না। অনেক সময় ধানের জমিতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ পানি জমে থাকে, এতে ফসল নষ্ট হয়।

সরদহ ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, শুকনো মৌসুমে সেচ দেওয়ার জন্য আমরা সমস্যায় পড়ি। খালগুলো সচল থাকলে জমিতে পানি আনা সহজ হতো। এখন গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, এতে খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

ইউসুফপুর এলাকার কৃষক তোতা মিয়া জানান, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে কয়েক হাজার বিঘা জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এতে কৃষকরা বড় ধরনের উপকার পাবেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

এতে ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাহাতুল করিম মিজান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উপজেলার খাল গুলো সার্ভে করে প্রায় ১৫টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় ২ টি খাল পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উপজেলার প্রায় ১৫ টি খাল আছে যা সংস্কারের অভাবে খালগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো পুনঃখনন করার জন্য বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পর্যায় ক্রমে এ খাল গুলো পুনঃখনন করা হবে বলে তিনি জানান। বর্তমান সরকারের কর্মসূচির মধ্যে খাল খনন প্রধান কর্মসূচি। তাই এলাকাবাসী মনে করেন, এসব খাল পুনঃখনন করে সচল করলে জমির হারিয়ে যাওয়া উর্বরতা শক্তি ফিরে পাবে।