১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা
সোনালী ডেস্ক: ১২ কেজির এলপি গ্যাসের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়ে যাওয়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সোমবার সন্ধ্যায় এলপিজির নতুন দামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিইআরসি। এদিন রাত ৮টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে। বিইআরসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের জন্য প্রতি কেজি বেসরকারি এলপিজির দাম ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। অক্টোবর ও নভেম্বর দুই মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে মোট ৪৭৫ টাকা।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধির কারণে নভেম্বর মাসে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সৌদি আরামকো ঘোষিত নভেম্বর মাসের জন্য প্রোপেনের মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৭২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৭৮০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ দুই উপাদানের মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় গড় সৌদি চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৭৫৯ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে এলপিজি আমদানির জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম বাবদ প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ মার্কিন ডলার এবং প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ৪৬ পয়সা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বর মাসে সৌদি চুক্তিমূল্য প্রতি মেট্রিক টনে গড়ে ৪৬ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার বেড়েছে। এর প্রভাবে মূসকসহ ১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে প্রায় ৭৪ টাকা। তবে কমিশনের নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী আগের মাসের তুলনায় খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে ২২৩ টাকা।
সরকারি এলপিজির দামও বাড়ানো হয়েছে। এলপি গ্যাস পিএলসি সরবরাহকৃত ১২ দশমিক ৫০ কেজি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।
এ ছাড়া অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১৬৫ টাকা ৮৫ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি ঘনমিটার ৩৬৮ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, ২৯ অক্টোবর প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাব পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শেষে কমিশন নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করেছে।











