ঢাকা | অক্টোবর ৭, ২০২৬ - ২:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি, ৩ দিনের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ

  • আপডেট: Tuesday, October 6, 2026 - 11:14 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় শহিদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের (৭২ ঘণ্টা) মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। উপাচার্য বলেন, আমরা আশা করছি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাব। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, তদন্তে চিহ্নিত অপরাধীদের প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে এবং থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন মামলা করায় ক্ষুব্ধ হন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হলে ভেতরে উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে প্রশাসন। ২ ঘণ্টারও বেশি সময় চলা আলোচনা শেষে রাত সোয়া ১টায় উপাচার্য প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতির ঘোষণাসহ অন্যান্য আশ্বাস দেন।

আন্দোলনকারীদের ৬ দফা দাবির মধ্যে ছিল—চিহ্নিত হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে মামলা ও তাদের গ্রেফতার নিশ্চিত করা, জড়িতদের সাময়িক ও পরবর্তীতে জরুরি সিন্ডকেট ডেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা, অছাত্রদের একাডেমিক সনদ বাতিল ও ক্যাম্পাসে আজীবন নিষিদ্ধ করা, সিসিটিভি ফুটেজ মোছার অভিযোগে হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি এবং হামলার সময় নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় থাকা প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগ। বৈঠক শেষে রাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির ব্রিফিংয়ে বলেন, আমরা ৬ দফা দাবি জানিয়েছিলাম। প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ১টি দাবি মেনে নিয়ে প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং বাকিগুলো বাস্তবায়নে তিন দিন সময় নিয়েছে। আমরাও প্রশাসনকে তিন দিন সময় বেঁধে দিয়েছি। এই সময়ে রাবির কোনো ধরনের সংবাদ সাংবাদিকরা পরিবেশন করবেন না। দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাল্টাপাল্টি পোস্টকে কেন্দ্র করে গত ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জের ধরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের দিকে অগ্রসর হন। খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে অস্ত্রধারী মহড়ার ভিডিও ধারণ শুরু করলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়।

এতে দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, আজকের পত্রিকার দীন ইসলাম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ-উজ-জামান কুরবান, ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। অব্যাহতি পাওয়া প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান স্বীকার করেছেন, হামলার আগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের বিষয়টি হল প্রশাসন অবগত ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাদের সরে যেতে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কথা শোনেনি।

অন্যদিকে, রামদা, চাপাতি ও হকিস্টিকসহ সশস্ত্র মহড়ার সময় প্রক্টরিয়াল বডি এবং পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এ বিষয়ে উপাচার্য জানান, হামলার পাশাপাশি প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগটিও তদন্ত করা হবে এবং কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস