ঢাকা | অক্টোবর ৭, ২০২৬ - ১:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ভবন মালিকের বাধা ও হুমকি: অবৈধ সুইমিংপুল না ভেঙেই ফিরল আরডিএ

  • আপডেট: Tuesday, October 6, 2026 - 11:04 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর তেরখাদিয়া এলাকার ‘রাইসা টাওয়ার’ নামের একটি ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে অবৈধ সুইমিংপুল ও প্রায় ২০ ট্রাক মাটি ফেলে তৈরি করা ছাদবাগান অপসারণের অভিযান বাধার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে। ভবন মালিকের সরাসরি হুমকি ও প্রতিরোধের মুখে কোনো স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযোগ উঠেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আরডিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি দল পুলিশ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে রাইসা টাওয়ারের ছাদে উঠতে গেলে ভবন মালিক আব্দুর রশিদ ও তাঁর লোকজন তাঁদের পথ আটকে দেন।

একপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রশিদ হুমকি দিয়ে বলেন, ক্ষমতা থাকলে উপরে ওঠেন। আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে আমি খেয়ে ফেলব। সুইটের বড় বাড় বেড়েছে। সরকারি অভিযানের সময় ভবন মালিকের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, গোদাগাড়ীর বাসিন্দা আব্দুর রশিদ আনুমানিক দুই বছর আগে আরডিএ থেকে নকশা অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা রাইসা টাওয়ার নির্মাণ করেন। তবে জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিএনবিসি) পুরোপুরি লঙ্ঘন করে ভবনের ছাদে একটি সুইমিংপুল নির্মাণ করেন এবং প্রায় ২০ ট্রাক মাটি তুলে বাগান বানান।

এতে পুরো ভবনটি কাঠামোগতভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আরডিএ থেকে তাঁকে একাধিকবার নোটিশ পাঠিয়ে সুইমিংপুল ও মাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোটিশ কার্যকর করতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে রাইসা টাওয়ারে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু ভবন মালিক আব্দুর রশিদ ও তাঁর সমর্থকেরা ভবনে প্রবেশের পথ অবরুদ্ধ করেন। চরম বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে কোনো উচ্ছেদ কাজ সম্পাদন না করেই আরডিএর প্রতিনিধি দলটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

এ বিষয়ে আরডিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদনের বাইরে গিয়ে ভবনের ছাদে ভারী সুইমিংপুল তৈরি ও মাটি তোলায় ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও তা না সরানোয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু ভবন মালিক উল্টো আরডিএ চেয়ারম্যানসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভবন মালিক আব্দুর রশিদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রাজশাহীতে ঝুঁকিপূর্ণ রাইসা টাওয়ার, ছাদে সুইমিংপুল, ২০ ট্রাক মাটি তুলে সবজি বাগান’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস