ঢাকা | অক্টোবর ২, ২০২৬ - ১১:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চারঘাটে সমবায় প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপডেট: Friday, October 2, 2026 - 10:19 pm

চারঘাট প্রতিনিধি: তৃণমূল পর্যায়ের সমবায়ীদের দক্ষতা বাড়িয়ে সফল সমবায় সমিতি ও আত্ম কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে চারঘাটে অনুষ্ঠিত সমবায় প্রশিক্ষণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রশিক্ষণের হাজিরা ও সম্মানী ভাতার মাস্টার রোল যাচাই করে বেশ কয়েকজন ‘প্রশিক্ষণার্থী’র নাম-পরিচয় ও সমিতির তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। কারও নাম ব্যবহার করা হয়েছে অন্য সমিতির সদস্যের। আবার যে সমিতির নামে প্রশিক্ষণ দেখানো হয়েছে, সেই সমিতির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চারঘাট উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্য এবং প্রশিক্ষণের হাজিরা ও সম্মানী ভাতার মাস্টার রোল অনুযায়ী, উপজেলার ২৫টি সমবায় সমিতির ৫০ জন সদস্য এতে অংশ নেন। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে সম্মানী, সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার এবং খাতা-কলম দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আবু সাইফ। প্রশিক্ষক ছিলেন জেলা সমবায় কার্যালয়ের প্রশিক্ষক নাসির উদ্দীন। তবে অনুসন্ধানে প্রশিক্ষণের তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। সমবায় অফিসের একটি সূত্রের দাবি, ৫০ জনের মধ্যে অন্তত ২০ জন ‘ভুয়া’ প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রশিক্ষণের একটি তালিকার ১৯ নম্বরে ‘আশার আলো গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজিবার রহমানের নাম, স্বাক্ষর এবং সম্মানী ও খাবার গ্রহণের তথ্য রয়েছে।

তালিকায় দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে আজিবার রহমান জানান, তিনি চক মোক্তারপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক। আশার আলো সমিতি নামে তাঁর কোনো সমিতি নেই এবং ওই সমিতি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তিনি ওই প্রশিক্ষণে অংশ নেননি বলেও দাবি করেছেন।

পরে আশার আলো গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে যোগাযোগ করে জানা যায়, সমিতিটির সাধারণ সম্পাদক মারা গেছেন। বর্তমানে পদটি শূন্য। সমিতির কোনো সদস্য প্রশিক্ষণে অংশ নেননি বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

চারঘাট উপজেলায় মোট ৯২টি সমবায় সমিতি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সমিতির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সমবায় সমিতির অভিযোগ, সমবায় কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পছন্দের কিছু সমিতিকে নিয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন সমিতির নামে অন্য ব্যক্তিদের দেখিয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে সমিতির নিবন্ধন বাতিলের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ তাদের। ফলে অনিয়মের বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সমবায়ী।

প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আবু সাইফ। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণে ২৫টি সমিতির ৫০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করার কথা। অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সোনালী/জগদীশ রবিদাস