ঢাকা | অক্টোবর ২, ২০২৬ - ১১:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পাবনার ফরিদপুরে মিলছে না মানসম্মত চিকিৎসাসেবা

  • আপডেট: Friday, October 2, 2026 - 10:25 pm

পাবনা প্রতিনিধি: স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। ১৪৫ দশমিক ৪৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কৃষিনির্ভর এ উপজেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৯ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপ থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে যান।

উপজেলায় মাত্র দুটি বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ করে প্রসূতি ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারের রোগীর চাপ বেশি থাকে। এর মধ্যে সম্প্রতি আল-মদিনা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অস্ত্রোপচার করা কয়েকজন রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ অবস্থায় উপজেলার অপর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। স্বল্প শয্যার স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে হাসপাতালটির স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলায় পর্যাপ্ত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় অনেক রোগীকে র্দীঘপথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদর অথবা পাশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের যাতায়াত, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।

একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি আল-মদিনা বেসরকারি হাসপাতালে আইডিসিআরের (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) একটি তদন্ত দল পরিদর্শন করে নমুনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরীক্ষা করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আইডিসিআরের তদন্ত দল প্রাথমিক একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে আল-মদিনা হাসপাতালের অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যাবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এতে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয় কমবে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস