অ্যাম্বুলেন্স আনল কে? রাবিতে শিবির-আম্মারের ‘ক্রেডিট’ দখলের লড়াই
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আনা একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ‘কৃতিত্ব’ ও মালিকানা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির এবং রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রশিবিরের ব্যানারে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সটি হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্সে ‘শিবিরের পক্ষ থেকে উপহার’ লেখা ব্যানার ঝুলানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের পরপরই রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক দীর্ঘ পোস্ট দেন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, অ্যাম্বুলেন্সটি মূলত রাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল এবং এটি তাঁর ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক যোগাযোগের ফসল। কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এটি উপহার হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল না। তিনি শিবিরের ব্যানার ব্যবহারকে ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ বলে আখ্যা দেন।
আম্মারের ভাষ্যমতে, গত ৬ আগস্ট তিনি লতিফা রশিদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের স্বামী তথা বিগত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের আবেদন জানান। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট তা মঞ্জুর হয় এবং ২১ আগস্ট রাকসুর অভ্যন্তরীণ বার্তা প্রদানকারী গ্রুপেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
আম্মার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তাঁর আগে অন্য কেউ এই অ্যাম্বুলেন্সের জন্য খালিদুজ্জামানের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন—এমন একটি ফোনকল বা বার্তার প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবেন।
এছাড়া তিনি জানান, প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকায় পরবর্তীতে প্রাপ্ত আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সের অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ লাখ টাকার ‘জরুরি চিকিৎসা তহবিল’ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আম্মারের এই পোস্টের জবাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আহমেদ আহসানউল্লাহ ফারহান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা পোস্ট দিয়ে আম্মারের বিরুদ্ধে গুরুতর অর্থ আত্মসাৎ ও পরিচয় প্রতারণার অভিযোগ তোলেন।
ফারহান দাবি করেন, আম্মার বিভিন্ন সময়ে শিবিরের নেতা পরিচয়ে খালিদুজ্জামানের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা এনেছেন। এমনকি কিছুদিন আগেও তিনি দুই লাখ টাকা এনেছেন যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। ফারহানের অভিযোগ অনুযায়ী, আম্মারের আর্থিক অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা আঁচ করতে পেরেই দাতা সংস্থা অ্যাম্বুলেন্সটি রাকসুর আম্মারের মাধ্যমে না দিয়ে রাবি ছাত্রশিবিরের হাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে খালিদুজ্জামানের অফিস থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার স্বার্থে আনা একটি অ্যাম্বুলেন্সকে কেন্দ্র করে ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রনেতার এই দ্বিমুখী মুখোমুখি অবস্থান বর্তমানে রাবি ক্যাম্পাসে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











