কোল্ড স্টোরেজে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার: কোল্ড স্টোরেজে আলুর ভাড়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ‘রহমান সিড স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেড’-এ বহিরাগতদের হামলা, কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাস ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি আবু বাক্কার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর গত ৩১ আগস্ট জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কোল্ড স্টোরেজে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৬ টাকা নির্ধারণ করে। কোল্ড স্টোরেজ মালিক পক্ষ রাজশাহীর ক্ষেত্রে কেজি প্রতি ৭ টাকা ভাড়ার দাবি জানালেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি নির্ধারিত ৬ টাকা হারেই ভাড়া আদায় করে আসছিলেন।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর এয়ারপোর্ট থানার দৌলতপুর এলাকার রহমান সিডস স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডে ম্যানেজার আব্দুল হালিম সরকার নির্ধারিত সরকারি রেটে আলু ডেলিভারি দিচ্ছিলেন।
এ সময় বহিরাগত বারইপাড়া গ্রামের আহাদ আলী (৫৫), তকিপুর গ্রামের শমসের আলী (৪০), তানোরের কালনা গ্রামের মোজাহার আলী (৩৮), মোহনপুরের নওপাড়া গ্রামের বাবুল (৩৮) এবং তকিপুর গ্রামের আনারুল ওরফে আনাসহ (৩৮) ৩০ থেকে ৩৫ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী কোল্ড স্টোরেজের অফিসে প্রবেশ করে।
তারা ম্যানেজারকে না পেয়ে ডেলিভারি অর্ডার অফিসার আজিজুর রহমানকে জোরপূর্বক সরকারি নির্ধারিত ৬ টাকার বদলে ৫ টাকা রেটে ডিও কাটার জন্য চাপ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা হিসাবরক্ষক রায়হান রানা, লেবার সালাউদ্দিন এবং সহকারী ম্যানেজার আজিজুর রহমানকে বেধড়ক কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। পরে তারা অন্যান্য স্টাফদের মারধরসহ অফিস রুমের চেয়ার, টেবিল, কম্পিউটার, ক্যাশ কাউন্টারের কাচ ও ম্যানেজারের টেবিল ভাঙচুর করে। এতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা স্টোরেজের ভেতরে ঢুকে আলুর বস্তা লুট করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন।
এ সময় সন্ত্রাসীরা কোল্ড স্টোরেজের স্টাফদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি বাড়া সত্ত্বেও কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছেন। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম সংকট ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং রাজশাহীর ৪০টি কোল্ড স্টোরেজের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আলু সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়বেন এবং কোল্ড স্টোরেজ শিল্প ধ্বংসের সম্মুখীন হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। একই সাথে পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসেন আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্ত, সহ-সভাপতি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, উত্তরা কোল্ড স্টোরেজের স্বত্ত্বাধিকারী খন্দকার রাসেল ওয়াজেদ, নিগার কোল্ড স্টোরেজের মালিক নুরুল ইসলাম ও আমান গ্রুপের ডিজিএম আব্দুল বারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











