ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ - ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীর ৭ স্কুলে পাঠদান বন্ধ, সাড়ে সাত’শ শিক্ষার্থীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

  • আপডেট: Monday, September 21, 2026 - 10:52 pm

পদ্মায় পানিবৃদ্ধি:

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে রাজশাহীর পবা ও বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দুর্গম চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে সাতশত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়কে স্থানীয় দুর্গত মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পবা উপজেলার পদ্মা চরে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে— চরখিদিরপুর, চর নবীনগর (মাজারদিয়ার) ও চর তারানগর। এর মধ্যে প্রতিবছরই নদীর পানিতে তলিয়ে যায় চরখিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো চরখিদিরপুরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষগুলোতে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি। সীমানা প্রাচীর ও কাটাতারের বেড়ার খুঁটি পানিতে প্রায় নিমজ্জিত। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে মূল ভবনে পাঠদান বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। জীবনের ঝুঁকিতে অভিভাবকেরা শিশুদের লোকালয়ে (রাজশাহী শহরে) পাঠিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পবার শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষে বিকল্প উপায়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পবার হরিয়ান ইউনিয়নের চরখিদিরপুরের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় অন্তত ২০০ পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং অনেকেই চর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন। চরখিদিরপুরের বাসিন্দা সাদ্দাম আলী বলেন, স্কুল ৪ ফুট পানির নিচে ডুবে গেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কেউ যেতে পারছে না। ছোট ছেলে-মেয়েদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় আত্মীয়দের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

অন্যদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাঘা উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পদ্মার পানিবৃদ্ধিতে বাঘার চরাঞ্চলের নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঘার চরাঞ্চলের ‘ চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি’ নদীভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা জানান, স্কুল ভেঙে নদীতে চলে যাওয়ায় ৯১ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন শিক্ষকের পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া আতারপাড়া, পশ্চিম চরকালিদাসখালী, ফতেহপুর পলাশী, লক্ষ্মীনগর ও চরকালিদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যাকবলিত হওয়ায় সেখানে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আতারপাড়া ও ফতেহপুর পলাশী বিদ্যালয় দুটিকে বন্যাদুর্গত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে পানি বাড়লেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ‘পলাশীফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এবং ‘চকরাজাপুর’ ও ‘পূর্ব চকরাজাপুর’—এই তিনটি বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু রয়েছে।

বাঘা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনূর রহমান জানান, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরেজমিনে প্লাবিত বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে পরিস্থিতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। বাঘার চরাঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জোবায়দা রওশন জাহান জানান, পবার তিনটি চরের মধ্যে চরখিদিরপুরের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিকল্প হিসেবে শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এনে ক্লাস করানো হচ্ছে, যা জেলা অফিসকে জানানো হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন জানান, দুর্ভোগ সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান একদম বন্ধ রাখা হয়নি। যেসব বিদ্যালয় ভবন প্লাবিত হয়েছে বা নদীগর্ভে গেছে, সেগুলোর শিক্ষার্থীদের বিকল্প উপায়ে পাঠদান করানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস