ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ - ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদারের দাবি

  • আপডেট: Sunday, September 20, 2026 - 10:50 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় মাদকের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সেবন এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত টহল ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকার সার্বিক জননিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশ রক্ষায় রোববার চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন জমা দেয়া হয়। এসময় মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আবেদনে এলাকাবাসী ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে ও প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্যের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের ঘটনা ঘটছে। মাদকের এই সহজলভ্যতার কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কিশোরদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাতে বিভিন্ন গলি ও মোড়ে অবস্থান, আড্ডা, বিশৃঙ্খলা, মারামারি ও পথচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ, জনবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল, বিশেষ করে রাতের বেলায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা। রাতে অপ্রয়োজনে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের সতর্ক করা, ক্ষেত্রবিশেষে তাদের অভিভাবকদের অবহিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানানো হয়। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এলাকায় নিয়মিত মাইকিং, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জনসচেতনতামূলক সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধও করা হয়।

আবেদনকারীরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা কিশোরকে হয়রানি করা নয়; বরং প্রকৃত অপরাধী ও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে পথভ্রষ্ট কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও সুশৃঙ্খল সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।