ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ - ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি: সবজি, ডিম ও মুরগির দাম চড়া

  • আপডেট: Saturday, September 19, 2026 - 10:14 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া ডিম ও মুরগির দামে চলতি সপ্তাহেও কোনো স্বস্তি ফেরেনি। একই সঙ্গে উজান থেকে আসা পানি ও ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। ফলে অধিকাংশ সবজি, ডিম, মুরগি ও মাছের দাম বাড়তির দিকেই রয়েছে। বিশেষ করে বেগুনের দাম কেজিতে আরও ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকায়।

শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী সাহেব বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চড়া চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে শসা ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, পিয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০-৪০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, ওল ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা, নাটোরের রসুন ৮০ টাকা এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে—যাতে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

এদিকে ডিম ও মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে চড়ামূল্যের একই চিত্র। ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৪৮-৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ৪৪-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫-৮০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মুরগির বাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকা, সোনালি ২৭০-২৮০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা, ফাউমি ৩৩০ টাকা, হাঁস ২৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০-২১০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২২০ টাকা, চাষের শিং ৩০০-৩৫০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০-৯০০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, দেশি কৈ ৮০০-১০০০ টাকা এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সবজি বিক্রেতা জসিম জানান, চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় দর কিছুটা চড়া, বিশেষ করে বেগুনের দাম বেড়েছে। ডিম ব্যবসায়ী জোসেফ আহমেদ জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে পাইকারি ও খুচরা বাজারে হালিপ্রতি ৮-১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। মুরগি ব্যবসায়ী ফাহিম আহমেদ বলেন, চলতি সপ্তাহেও ব্রয়লারসহ সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে আসা ক্রেতা রোকেয়া কামাল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কিছুদিন আগেও যে সবজি ৩০ টাকায় কেনা যেত, তা এখন ৫০-৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতা হেলিম ও মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা জানান, দাম তুলনামূলক বাড়তির দিকে থাকায় দৈনন্দিন কেনাকাটায় বাড়তি আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছে।