ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ - ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপের উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিনু

  • আপডেট: Thursday, September 17, 2026 - 11:17 pm

সোনালী ডেস্ক: মাঠ পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূমিসেবা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নতুন এই অ্যাপের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, “মাঠ প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়গুলোকে একই ডিজিটাল মনিটরিং কাঠামোর আওতায় আনা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, তথ্যভিত্তিক তদারকি এবং নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। “একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে।”

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন অনুষ্ঠানে বলেন, “ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং ভূমিসেবা কার্যক্রমের জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। “এ ব্যবস্থায় ‘জিও ফেন্সিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ধারিত কর্মস্থলের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান করলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা নিবন্ধন করতে পারছে।” ইতোমধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই ছয় জেলায় ব্যবস্থাটির পাইলটিং চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পাইলট প্রকল্পের আওতায় এসব জেলার ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ব্যবস্থা চালুর কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জিও ফেন্সিং’ হচ্ছে মানচিত্রের ওপর নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণের একটি প্রযুক্তি। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি ভূমি অফিস বা কার্যালয়ের চারপাশে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের একটি ভার্চুয়াল সীমানা নির্ধারণ করা হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মোবাইল ফোনের অবস্থান ওই সীমানার ভেতরে থাকলেই মোবাইল অ্যাপে উপস্থিতি নিবন্ধনের সুযোগ সক্রিয় হবে। ফলে কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যাপটির মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চেক-ইন এবং কর্মদিবস শেষে চেক-আউট করতে পারবেন। একই ব্যবস্থার মাধ্যমে ছুটির আবেদনও দাখিল করা যাবে। কোনো ভূমি কর্মকর্তা অফিস চলাকালীন কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল সংকেত দেখা যাবে। তবে অফিসে উপস্থিত থাকার পর কোনো কর্মকর্তা সভা, তদন্ত বা সরকারি প্রয়োজনে বাইরে গেলে ‘সাইট ভিজিট’ অপশন ব্যবহার করে প্রস্থানের কারণ উল্লেখ করতে পারবেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সাধারণত ভূমি অফিসে নাগরিকরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা গ্রহণ করেন। ফলে সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। “ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত মাঠ প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়গুলো সরেজমিনে নিয়মিত তদারকি করা সময়সাপেক্ষ ও কঠিন। এ অবস্থায় অবস্থানভিত্তিক অনলাইন যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গেলে তদারকি কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে।” পাইলটিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ব্যবস্থাটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।