ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ - ২:২৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী মেডিকেলে ২ মাসে সাপের কামড়ে ভর্তি ৩৯২ রোগী

  • আপডেট: Thursday, September 17, 2026 - 11:15 pm

দেরিতে আসায় বাড়ছে ঝুঁকি:

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বিশেষায়িত ‘স্নেকবাইট ওয়ার্ড’-এ চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন মোট ৩৯২ জন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাসপাতালে আসা মোট রোগীর ৮০ দশমিক ৪ শতাংশই বিষহীন সাপের দংশনের শিকার। তবে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করা এবং হাসপাতালে আসতে দেরি করাই চিকিৎসকদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে মোট ২৮৯ জন সর্পদংশনে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ২৩৪ জন বা প্রায় ৮১ শতাংশ রোগী ছিলেন বিষহীন সাপের কামড়ের শিকার, আর বাকি ৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন বিষধর সাপের কামড়ে।

অন্যদিকে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনেই ১০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮১ জন বিষহীন ও ২২ জন বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। সব মিলিয়ে দুই মাসে আক্রান্ত ৩৯২ জনের মধ্যে ৩১৫ জন বিষহীন এবং ৭৭ জন বিষধর সাপের কামড়ের মুখোমুখি হয়েছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সার্বিক মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশে নামলেও যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা সবাই ক্রেইট বা কেউটে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ছিলেন।

বিষধর সাপের দংশনের শিকার ৭৭ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন কেউটে সাপের কামড়ে। এছাড়া ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ গোখরা, ৯ দশমিক ১ শতাংশ রাসেলস ভাইপার এবং ১৩ শতাংশ রোগী গোখরা বা কেউটের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। গত দুই মাসে মোট ভর্তি রোগীদের বড় অংশ বিষহীন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলেও বিষধর সাপের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়াই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সম্প্রতি বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলঘেঁষা পলাশীফতেপুরের গৃহবধূ বিথি খাতুনের (২৫) মর্মান্তিক মৃত্যু সাপের কামড়ে অসচেতনতার চিত্রটি নতুন করে সামনে এনেছে। গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর বিথিকে হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে ওঝার কাছে নেয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলেও স্বজনেরা সেখানে প্রস্তুত রাখা জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনাম নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসকদের অনবরত কাউন্সিলিং ও আকুতি উপেক্ষা করে বিকল্প পরামর্শের নামে সময় নষ্ট করার পর উন্নত চিকিৎসার আশায় রাজশাহী হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে সাপের স্বাভাবিক আবাস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লোকালয়ে সাপের উপদ্রব কিছুটা বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাঘা, গোদাগাড়ী ও বাগমারা সহ জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রামেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম মজুত রাখা হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও স্নেকবাইট ওয়ার্ডের ইনচার্জ ডা. আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, বিশেষায়িত ‘স্নেকবাইট ওয়ার্ড’ চালুর পর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় ব্যবস্থাপনায় রোগীদের সুস্থতার হার বেড়েছে। তবে আক্রান্তদের দেরিতে হাসপাতালে আসা এখনো বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওঝা বা ঝাড়ফুঁকে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে সাপের কামড়ের পরপরই নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে এসে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনাম নিলে সাপের কামড়ে মৃত্যু পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস